ইঁদুর পুড়িয়ে মারার মারাত্মক ভিডিও, সামনে আসতেই ৪ যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ!

অবলা প্রাণীর ওপর চরম নৃশংসতার এক শিউরে ওঠা ঘটনা সামনে এল উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি থেকে। সামান্য একটি ইঁদুরকে ধরে তার লেজে দাহ্য পদার্থ ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল চার যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার সেই সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। হাড়হিম করা এই নিষ্ঠুরতা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়ে চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

৪৭ মিনিটের হাড়হিম ভিডিও ও জনরোষ

পুলিশ সূত্রে খবর, এই পাশবিক ঘটনাটি ঘটেছে ঝাঁসির কোতোয়ালি থানা এলাকার অন্তর্গত ওরছা গেটে। ভাইরাল হওয়া প্রায় ৪৭ মিনিটের দীর্ঘ ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন যুবক একটি ইঁদুরকে আটকে ঘরে নিয়ে আসে। এরপরই সেটির লেজ শক্ত করে বেঁধে তার শরীরে দাহ্য পদার্থ বা পেট্রোলজাতীয় তরল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ইঁদুরটির করুণ পরিণতির সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই চরম বিতর্ক ও জনরোষের সৃষ্টি হয়।

শনাক্তকরণের পর বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ

ঘটনার ভিডিও নজর আসার পরপরই বিষয়টি গড়ায় প্রশাসনের দ্বারে। ঝাঁসি কোতোয়ালি থানার পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়া ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে এবং অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।

পুলিশ কর্মকর্তা প্রিয়া সিং জানান, ভিডিও ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্ত চার যুবককে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্তরা হলো:

  • জুনায়েদ কোরেশি

  • জিশান কোরেশি

  • আসিফ কোরেশি

  • শফিক

ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় বড় মামলা

পুলিশ কর্মকর্তা প্রিয়া সিং আরও বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের নজরে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভিডিও আসে, যেখানে একটি জীবন্ত পশুর প্রতি চরম নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পরপরই আমরা কড়া আইনি পদক্ষেপ নিই এবং সিটি থানায় মামলা দায়ের করি।”

তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত চার অভিযুক্তকেই হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি) ও পশু নিষ্ঠুরতা নিবারণ আইনের উপযুক্ত ধারায় মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পশুর ওপর এহেন অমানবিক ঘটনার কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন পশুপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *