“হঠাৎ ভোট ঘোষণা হয়ে গেলে সব শেষ!” জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ ডিভিশন বেঞ্চে, আটকে গেল পুরভোটের মামলা?

আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের আগেই ওয়ার্ড পুনর্গঠন বা ‘ডিলিমিটেশন’ (De-limitation) নিয়ে চড়ল আইনি উত্তাপের পারদ। সিঙ্গেল বেঞ্চের বা একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা এবার পৌঁছাল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। তবে পুজো অবকাশকালীন জরুরি বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানির অনুমতি দিল না আদালত। ফলে পুজোর ছুটির পরই মামলাটি পুরোদমে শুনানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিচারপতি অরিন্দম মুখার্জির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আর্জি আপাতত মঞ্জুর করেনি।
“ভোট ঘোষণা হলে আদালতের কাছে আসার সুযোগ রয়েছে!” আদালতের বড় মন্তব্য
মামলাটির শুনানির আবেদন খারিজ করে ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে, “যেহেতু একক বেঞ্চে মূল মামলাটি ইতিমধ্যে গৃহীত হয়েছে, তাই নতুন করে নির্বাচন ঘোষণা করা হলে প্রতি মুহূর্তে আবেদনকারীদের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আইনি সুযোগ খোলা রয়েছে। ফলত, এই মুহূর্তে আদালত মনে করছে না যে এই মামলার পূজা অবকাশকালীন বেঞ্চে জরুরি ভিত্তিতে দায়ের বা শুনানির কোনো প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।”
তবে আবেদনকারী দীপু দাসের পক্ষে আইনজীবী শামিম আহমেদ আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতকে জানান, “আমরা আশঙ্কায় রয়েছি যে, হাইকোর্টের এই অবকাশকালীন ছুটির মধ্যেই যদি রাজ্য নির্বাচন কমিশন পুরসভার ভোট ঘোষণা করে দেয়, তবে আমাদের এই আবেদনের সমস্ত গুরুত্বই হারিয়ে যাবে।”
ঠিক কী নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি বিতর্ক?
কলকাতা পুরসভার মোট আসন সংখ্যা পূর্বে ছিল ১৪৪টি। নতুন ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার পর তা একলাফে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০৯টি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— ঠিক কীসের ভিত্তিতে ও কোন যুক্তিতে এই আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন করা হলো?
আবেদনকারীদের মূল দাবি:
-
ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে কোনো সঠিক বৈজ্ঞানিক ও জনসংখ্যাভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়নি।
-
সম্পূর্ণ মর্জিমাফিক ও খামখেয়ালিভাবে রাজনৈতিক সুবিধা পেতে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুরভোটের হাওয়ায় নতুন আইনি জট
সামনেই কলকাতা পুরসভার হাইভোল্টেজ নির্বাচন। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ১৪৪টি থেকে ২০৯টি আসন বাড়ার বিষয়টি নিয়ে যেমন রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছিল, তেমনই আদালত পর্যন্ত জল গড়ানোয় পুরভোটের সময়সূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। অবকাশকালীন ছুটি শেষে হাইকোর্ট খোলার পর এই ডিলিমিটেশন মামলার চূড়ান্ত মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই নজর রাখছে সমস্ত রাজনৈতিক দল ও শহরবাসী।