শিলিগুড়ি থেকে রাজারহাট ও ঝাড়গ্রাম! ৬টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নিয়ে মেগা প্ল্যান রাজ্য বন দপ্তরের!

পশ্চিমবঙ্গের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশ পর্যটনে এক নতুন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। শিলিগুড়ির বিখ্যাত বেঙ্গল সাফারি পার্ক থেকে মোট ৬টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে রাজ্যের দুটি ভিন্ন প্রান্তে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য বন দফতর। এর মধ্যে ১টি বাঘকে আনা হচ্ছে কলকাতার উপকণ্ঠে রাজারহাট নিউ টাউনের ‘হরিণালয় মিনি চিড়িয়াখানা’য় এবং বাকি ৫টি বাঘের নতুন ঠিকানা হতে চলেছে ঝাড়গ্রামের নতুন বাঘ সাফারি পার্ক।
রাজ্যে পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং বন্যপ্রাণীদের সুষম বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে বন দফতরের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে জানিয়েছেন বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও।
নতুন বছরের শুরুতেই কলকাতায় আগমন! কবে কোথায় যাচ্ছে বাঘ?
বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও জানিয়েছেন, “রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পর্যটনের আকর্ষণ বাড়াতে বন দফতরের পক্ষ থেকে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বেঙ্গল সাফারি থেকে দুটি পৃথক স্থানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে:
রাজারহাট হরিণালয়: ইংরেজি নতুন বছরের শুরুতেই শিলিগুড়ি থেকে ১টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে রাজারহাটের হরিণালয়ে আনা হবে।
ঝাড়গ্রাম সাফারি পার্ক: ঝাড়গ্রামের নবনির্মিত সাফারিতে ধাপে ধাপে পাঠানো হবে বাকি ৫টি বাঘ। আগামী দুই বছরের মধ্যে ঝাড়গ্রামের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হবে।
কেন বেঙ্গল সাফারি থেকে বাঘ সরানোর সিদ্ধান্ত?
২০১৬ সালে ‘শিলা’ ও ‘স্নেহাশিস’ নামে দুটি বাঘ দিয়ে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪টিতে। কিন্তু অধিকাংশ বাঘ একই বংশের হওয়ায় নতুন ‘ব্লাডলাইন’ বা বংশধারা তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যাতে জিনগত জটিলতা এড়ানো যায়।
এই প্রজনন ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিমধ্যেই দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কের একটি বাঘিনীকে বেঙ্গল সাফারিতে এনে বিনিময়ে সেখানকার একটি বাঘিনীকে দার্জিলিংয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গত বছর প্রায় ৫০ বিঘা জমিজুড়ে ৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি নতুন এনক্লোজারের পর এবার এই বড় ধরণের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
ঝাড়গ্রামে ২৫ কোটির মেগা সাফারি প্রজেক্ট
জঙ্গলমহলের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে ঝাড়গ্রামে বেঙ্গল সাফারির আদলেই গড়ে উঠছে এক সুবিশাল বাঘ সাফারি। জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কের বিপরীতে এই প্রকল্পের জন্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে ২২৬.৩৭ একর জমি ইতিধ্যেই বন দফতরকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৬৫ একর জমিতে তৈরি হচ্ছে মূল বাঘ সাফারি ও আধুনিক পরিকাঠামো, যার জন্য রাজ্য সরকার ২৫ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করেছে। রাজারহাটে বাঘের আগমন এবং ঝাড়গ্রামের এই নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে বন্যপ্রাণী কেন্দ্রিক পর্যটনে জোয়ার আসবে বলে আশাবাদী বন দফতর।