উৎসবের বাজারে টাকার বন্যা! ইউপিআই লেনদেনে প্রতিদিনের গড়ের সর্বকালীন রেকর্ড চমকে দিল সবাইকে!

দীপাবলি ও উৎসবের মরশুমে দেশজুড়ে কেনাকাটার জোয়ারে ডিজিটাল পেমেন্টের দুনিয়ায় তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব নজির। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-র সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে প্রথমবারের মতো ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই (UPI)-এর মাধ্যমে প্রতিদিনের গড়ে লেনদেনের অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে ১ লক্ষ কোটি টাকা!
শুধু তাই নয়, এক মাসে মোট লেনদেনের মূল্যও আকাশ ছুঁয়ে পৌঁছে গেছে সর্বকালীন রেকর্ড ৩১.৫৩ লক্ষ কোটি টাকায়। দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য— ভারতীয় অর্থনীতিতে ডিজিটাল লেনদেন যে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে, এই পরিসংখ্যান তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ।
এক মাসে ৩১.৫৩ লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন!
সর্বভারতীয় তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ইউপিআই-এর মাধ্যমে মোট ২৫.৪৭ বিলিয়ন বা ২,৫৪৭ কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর অর্থ হলো, ওই মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮২ কোটি ১০ লক্ষ বার এই ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদান করেছেন গ্রাহকরা। প্রতিদিনের লেনদেনের সংখ্যার নিরিখেও অতীতের সমস্ত রেকর্ড ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।
এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ লেনদেনের অঙ্ক ছিল ২৯.৯ লক্ষ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মে মাসে নথিভুক্ত হয়েছিল। এছাড়া অগস্টে লেনদেনের সংখ্যা ২৪.৫ বিলিয়নে পৌঁছানোর পর সেপ্টেম্বরে প্রতিদিনের গড় লেনদেন ছিল প্রায় ৮০ কোটি ২০ লক্ষ। অক্টোবরে সেই সমস্ত পূর্বের মাইলফলকও পেছনে ফেলে দিয়েছে ইউপিআই।
উৎসবের কেনাকাটায় লাফিয়ে বাড়ল ডিজিটাল পেমেন্ট
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীপাবলি ও উৎসবের মরশুমের রমরমা কেনাকাটাই ইউপিআই লেনদেনের এই গ্রাফকে এক লাফে অনেকটা ওপরে তুলে দিয়েছে। তাছাড়া, অক্টোবর মাসে ৩১ দিন থাকায় মোট লেনদেনের অঙ্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও তা সহায়ক হয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট ডিজিটাল পেমেন্টের প্রায় ৮৯ শতাংশই সম্পাদিত হয় ইউপিআই-এর মাধ্যমে। খুচরো বাজার থেকে শুরু করে ছোট-বড় সমস্ত ব্যবসার ক্ষেত্রে এই মাধ্যম এখন সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দ।
এমডিআর (MDR) ও লেনদেনের খরচ নিয়ে জল্পনা
রেকর্ড গড়ার এই সাফল্যের মাঝেই ইউপিআই লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR) চালু করা নিয়ে আর্থিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিজিটাল পেমেন্ট প্রসেসিংয়ের জন্য এই ফি নেওয়ার কথা ভাবা হয়।
গত সেপ্টেম্বরে ইউপিআই স্টিয়ারিং কমিটি ২,০০০ টাকার বেশি অঙ্কের ব্যবসায়িক লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআর নির্ধারণ করেছিল। তবে ব্যবসায়ী সংগঠন, ফিনটেক সংস্থা এবং পেমেন্ট প্রদানকারীদের প্রবল আপত্তির মুখে দীপাবলির আগে সেই সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত এই হার কার্যকর হলে ২,০০০ টাকার লেনদেনে ৮ টাকা এবং ১০,০০০ টাকার লেনদেনে ৪০ টাকা পর্যন্ত ফি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এই ব্যবস্থা চালু হলে ব্যাংক ও পেমেন্ট সংস্থাগুলির বার্ষিক আয় প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে লেনদেনের খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহক ও খুচরো ব্যবসায়ীদের পেমেন্ট অভ্যাসে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার!