চুরি করতে ঢুকে প্রথমেই ফ্রিজের কেক সাটালো চোর! গড়িয়ায় দুঃসাহসিক লুটের ধরণ দেখে তাজ্জব পুলিশ!

চুরি করতে ঢুকে তড়িঘড়ি সোনা-দানা বা নগদ টাকা হাতানোর গল্প তো অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু চুরি করার আগে নিদ্বিধায় ফ্রিজ খুলে কেক খাওয়ার ঘটনা শুনেছেন কখনো? এমনই এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর চুরির সাক্ষী থাকল দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার গড়িয়ার ফরতাবাদ। ফাঁকা বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ঢুকে নগদ টাকা, বহুমূল্য রত্ন, বিদেশি ডলারসহ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী লুট করে চম্পট দিয়েছে তিন দুষ্কৃতী।

গড়িয়ার ফরতাবাদের বি-৬ প্রান্তিকা এলাকার ‘চন্দনা’ আবাসের বাসিন্দা পৃথ্বীরাজ রায়ের বাড়িতে এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে ছিলেন।

জন্মদিনের কেক সাবাড় ও সিসিটিভি এড়াতে চাদর মুড়ি!
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ঘটনার ঠিক দু’দিন আগেই পৃথ্বীরাজবাবুর স্ত্রী সুকন্যা রায়ের জন্মদিন ছিল। সেই উপলক্ষেই আনা কেকের কিছুটা অংশ ফ্রিজে রাখা ছিল। সন্ধ্যা ৮টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বাড়ির পেছনের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢোকে তিন দুষ্কৃতী। অভিযোগ, ঘরে ঢুকেই তাদের নজর পড়ে ফ্রিজে। নিশ্চিন্তে ফ্রিজ খুলে জন্মদিনের কেক বের করে খায় তারা।

এরপর ঘরের ভেতর সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে পেয়েই দ্রুত মুখে কালো কাপড় বেঁধে নেয় দুষ্কৃতীরা। এমনকি নিজেদের পরিচয় সম্পূর্ণ ঢাকতে সোফার চাদর গায়ে জড়িয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে তল্লাশি চালায় তারা।

মূর্তিতে ভাঙচুর ও ৫ লক্ষ টাকার সামগ্রী লুট
দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব থেকে রেহাই পায়নি ঘরের ঠাকুরঘরও। অভিযোগে জানানো হয়েছে, ঘরের মধ্যে থাকা রাধাকৃষ্ণের মূর্তি সোনার কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য মূর্তির পোশাক পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলে চোরের দল!

এরপর আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, মহামূল্যবান রত্ন, বিদেশি ডলার এবং বিদেশি মদ নিয়ে চম্পট দেয় তারা। শুধু লুটপাটই নয়, ওই পরিবারের ছেলের পড়াশোনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। চুরি হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লক্ষ টাকারও বেশি।

পরিকল্পিত হানা? তদন্তে পুলিশ
দুষ্কৃতীরা সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ড ডিস্কের খোঁজে তল্লাশি চালালেও শেষ পর্যন্ত তা খুঁজে পায়নি। ফলে সিসিটিভি ফুটেজে চোরদের সমস্ত অদ্ভুত কীর্তিকলাপ ধরা পড়েছে, যার ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই চোর শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

জন্মদিনের পরেই বাড়িতে বহুমূল্য উপহার জমা হতে পারে— এই খবর পেয়েই পরিচিত কেউ ছক কষে এই হানা দিল কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যে এমন অভিনব ও দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা গুরিয়া ফরতাবাদ এলাকায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *