দোকানে আর সহজে দেখা মেলে না! ভাইফোঁটায় স্পেশাল চমক দিতে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন রসালো ‘লবঙ্গলতিকা’

বাঙালি মিষ্টির ইতিহাসে লবঙ্গলতিকার নাম শুনলেই জিভে জল আসে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার। রসগোল্লা বা পান্তুয়ার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া এই প্রাচীন ও সুস্বাদু মিষ্টিটি এখন আর আকছার দোকানে দেখতে পাওয়া যায় না বললেই চলে। তবে ঐতিহ্যবাহী সেই হারিয়ে যাওয়া স্বাদকে ফিরিয়ে আনতে এবং ভাইফোঁটার দিন আপনজনদের পাতে একটু অন্যরকম চমক দিতে ঘরেই খুব সহজে বানিয়ে ফেলতে পারেন রসে ভরা লবঙ্গলতিকা। রইল এর সহজ রেসিপি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

তরল দুধ (ক্ষীর তৈরির জন্য) অথবা দোকান থেকে আনা খোয়া ক্ষীর

ময়দা

ঘি ও সাদা তেল (ভাজার জন্য)

চিনি (সিরাপের জন্য)

লবঙ্গ (আস্ত)

নুন (স্বাদমতো)

বানানোর সহজ প্রণালী:
১. ক্ষীর তৈরি: প্রথমে ১ লিটার ঘন দুধ ফুটিয়ে ক্ষীর বানিয়ে নিন। তবে সময় বাঁচাতে চাইলে বাজার থেকে কিনে আনা খোয়া ক্ষীরও ব্যবহার করতে পারেন।
২. ময়দা মাখা: একটি পাত্রে ময়দার সঙ্গে সামান্য নুন ও ঘি দিয়ে ভালো করে ময়য়ান দিন। এরপর পরিমাণমতো জল দিয়ে একটি লুচির ময়দার মতো ডো তৈরি করুন। ময়দা যেন খুব নরম বা খুব শক্ত না হয়। মাখা হয়ে গেলে ২০ মিনিট ঢাকা দিয়ে রেখে দিন।
৩. পুর ভরা ও লবঙ্গলতিকা তৈরি:

তৈরি করা ক্ষীর থেকে ছোট ছোট গোল লেচি বা গুলি বানিয়ে নিন।

অন্যদিকে ময়দার ডো থেকে একটু বড় সাইজের লেচি কেটে লুচির আকারে বেলে নিন।

এবার বেলের মাঝখানে ওই ক্ষীরের পুর রেখে চারদিক থেকে ময়দার স্তর সুন্দর করে মুড়ে বা ভাঁজ করে চৌকো খামের মতো আকার দিন।

ভাঁজ করা মুখগুলি যাতে খুলে না যায়, তার ঠিক মাঝখানে একটি আস্ত লবঙ্গ গেঁথে আটকে দিন। লবঙ্গই এই মিষ্টির মূল আকর্ষক ও নাম সার্থক করার চাবিকাঠি।
৪. ভাজা ও চিনির সিরা: কড়াইতে পর্যাপ্ত সাদা তেল বা ঘি গরম করে এই লবঙ্গলতিকাগুলি ডুবো তেলে হালকা সোনালি ও মুচমুচে করে এপিঠ-ওপিঠ ভেজে তুলে নিন।
৫. সিরায় ডোবানো: অন্য একটি পাত্রে চিনি ও জল দিয়ে হালকা চটচটে চিনির সিরা বানিয়ে নিন। ভাজা গরম লবঙ্গলতিকাগুলি সরাসরি ওই সিরায় ফেলে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন, যাতে ভেতরে রস ভালোভাবে ঢুকে যায়।

বাস, রসালো ও সুগন্ধি লবঙ্গলতিকা একদম তৈরি! ভাইফোঁটার দিন এই পদ পাতে পড়লে বড় থেকে ছোট—সকলেই প্রশংসা করতে বাধ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *