বাড়ি বা জমি থাকলে আইনজীবী ছাড়াই কি নিজের হাতে উইল লেখা যায়? জানুন আইনি নিয়ম!

সম্পত্তি বন্টন বা উত্তরাধিকার নিয়ে পরিবারে বিরোধ এড়াতে অনেকেই জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে উইল তৈরি করে রাখতে পছন্দ করেন। মানুষের মনে প্রায়শই প্রশ্ন জাগে, নিজের মৃত্যুর পর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স কিংবা গয়নাগাটি কার হাতে যাবে, তা কি কেবল আইনজীবীর সাহায্যেই ঠিক করা সম্ভব? ভারতের আইন অনুযায়ী, উইল তৈরির জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা মোটেও বাধ্যতামূলক নয়। এমনকি সাধারণ সাদা কাগজে নিজের হাতে লিখেও সম্পূর্ণ আইনি বৈধতা সহ উইল প্রস্তুত করা যায়।

আইনি পরিভাষায় উইল হলো এমন এক লিখিত নথি, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি কাদের মধ্যে এবং কীভাবে বণ্টিত হবে, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে যান। উইল প্রস্তুতকারীকে বলা হয় টেস্টেটর এবং সুবিধাভোগীদের বলা হয় বেনিফিশিয়ারি। উইল থাকলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি বা আইনি দ্বন্দ্বের আশঙ্কা অনেকাংশেই কমে যায়। তবে উইল না থাকলে আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়।

ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ৬৩ নম্বর ধারা অনুসারে, বৈধ উইল তৈরির জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা আবশ্যক। প্রথমত, উইল প্রস্তুতকারীকে কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সি এবং সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে। দ্বিতীয়ত, উইলটি হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং কোনো রকম বাহ্যিক চাপ বা প্রলোভনমুক্ত। তৃতীয়ত, কোন সম্পত্তি কাকে দেওয়া হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও উত্তরাধিকারীর সঠিক পরিচয় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। চতুর্থত, নথিতে প্রস্তুতকারীকে অবশ্যই নিজের স্বাক্ষর করতে হবে। পরিশেষে, উইলে অন্তত দুজন সাক্ষীর উপস্থিতি এবং তাদের স্বাক্ষর থাকা অপরিহার্য, যারা সাক্ষ্য দেবেন যে উইলটি প্রস্তুতকারীর সামনেই স্বাক্ষরিত হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে এমন ব্যক্তিদের নির্বাচন করা শ্রেয়, যারা ওই উইলের মাধ্যমে কোনো সম্পত্তি লাভ করবেন না।

অনেকেরই ধারণা থাকে যে উইল রেজিস্ট্রি করানো বাধ্যতামূলক। তবে ভারতের আইন অনুযায়ী উইল রেজিস্ট্রি করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি না করালেও সাধারণ হাতে লেখা বা টাইপ করা উইল বৈধ হতে পারে। তবে রেজিস্ট্রি করালে সরকারের কাছে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে উইলের সত্যতা প্রমাণ করতে সহায়তা করে।

উইল লেখার সময় কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা উচিত। সম্পত্তির বন্টন সংক্রান্ত নির্দেশাবলীতে কোনো রকম অস্পষ্টতা রাখা যাবে না। কার ভাগে ঠিক কতটা সম্পত্তি পড়ছে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে। নথির প্রতিটি পাতায় স্বাক্ষর এবং তারিখ ব্যবহারের পাশাপাশি একজন বিশ্বস্ত এক্সিকিউটর বা কার্যনির্বাহক নিয়োগ করা যেতে পারে, যিনি উইল বাস্তবায়নের কাজটি পরিচালনা করবেন। সঠিক নিয়ম মেনে ঘরে বসেই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *