টেন্ডার ছাড়া জমি লিজ ও ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি! মুর্শিদাবাদ স্টেশনে ঝটিকা অভিযানে মন্ত্রীর হুলুস্থুল, শুরু উচ্চপর্যায়ের তদন্ত

মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) রেলওয়ে স্টেশনের দুর্বল পরিচালনা ব্যবস্থা, বেহাল রক্ষণাবেক্ষণ এবং রেলকর্মীদের একাংশের গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে এবার নড়েচড়ে বসল পূর্ব রেল। স্টেশন কর্তৃপক্ষের অনিয়ম নিয়ে খোদ রাজ্য সরকারের মন্ত্রী সরব হতেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেল প্রশাসন।

রবিবার মুর্শিদাবাদ স্টেশনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সরকারের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ, গণশিক্ষা ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ স্টেশনের সার্বিক অব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।

কী কী মারাত্মক অভিযোগ উঠল?
মন্ত্রীর উত্থাপিত অভিযোগের তালিকায় ছিল একের পর এক বিস্ফোরক দাবি:

রেলওয়ে প্রটেকশন ফোর্সের (RPF) ভূমিকা: স্টেশন চত্বরে যাত্রী সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরপিএফ কর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।

তৎকাল টিকিটের কালোবাজারি: মুর্শিদাবাদ জংশন স্টেশনে সরকারি মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে দালালের মাধ্যমে তৎকাল টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।

বেআইনি জমি লিজ ও তোলাবাজি: সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্টেশনের বাগান ও রেলের ফাঁকা জমি নিয়ে। টেন্ডার ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সেই জমি লিজ দিয়ে তোলাবাজি চালানোর অভিযোগ ওঠে স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে।

নথি দেখতে না পেয়ে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে তীব্র বচসা
জানা গিয়েছে, এই সমস্ত লিজের সরকারি নথি ও টেন্ডারের কাগজ দেখতে চেয়েছিলেন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। কিন্তু স্টেশন মাস্টার দু’দিন পর কাগজ দেখাবেন বলে জানালেও দীর্ঘ দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো নথি দেখাতে পারেননি।

নথি না পাওয়ায় রবিবার সকালে সরাসরি স্টেশনে পৌঁছে যান মন্ত্রী। সেখানে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা ও বচসার সৃষ্টি হয়। এর পরই তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রেলের চরম অব্যবস্থা প্রকাশ্যে আনেন।

তদন্তে শিয়ালদহ ডিভিশনের এডিআরএম (ADRM)
মন্ত্রীর এই ঝটিকা অভিযান এবং গুরুতর অভিযোগের পর নড়েচড়ে বসেছে পূর্ব রেল। রেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে শিয়ালদহ ডিভিশনের অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ADRM)-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। এই দল পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ জুলাই মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে গোবিন্দপুর রেলগেটে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় একটি স্কুল পড়ুয়া বোঝাই পুলকার দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২ শিশুসহ মোট ৫ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা থাকা অবস্থায় ফের মুর্শিদাবাদের রেল পরিষেবা ও সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *