‘সংশোধন উইন্ডো পেলেই নতুন আবেদন? কক্ষনই নয়!’ টেট প্রার্থীর মেগা আর্জি সোজাসুজি খারিজ করল হাইকোর্ট!

পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের (WBBPE) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন করে আবেদন করার সুযোগ চেয়ে করা মামলা এক ধাক্কায় খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পর্ষদের জারি করা ‘তথ্য সংশোধন উইন্ডো’ (Correction Window)-র ওপর ভিত্তি করে নতুন ফর্ম পূরণের যে আর্জি জানানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি রিশাদ মেদোরা।

ঠিক কী কারণে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন টেট প্রার্থী?

ঘটনার সূত্রপাত শম্ভু চরণ বেরা নামে ওবিসি-এ (OBC-A) ক্যাটাগরির এক প্রার্থীর আবেদনকে কেন্দ্র করে। প্রাথমিক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আবেদনপত্র জমা দিতে পারেননি।

পরবর্তীকালে পর্ষদের তরফ থেকে আগে থেকেই আবেদন করা ওবিসি প্রজাতিভুক্ত পরীক্ষার্থীদের নিজেদের জমা দেওয়া তথ্যে কোনো ভুল থাকলে তা শুধরে নেওয়ার জন্য একটি ‘কারেকশন উইন্ডো’ প্রকাশ করা হয়। এই নির্দেশিকা দেখেই মামলাকারী হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়েন। তাঁর দাবি ছিল—যেহেতু ওবিসি প্রার্থীদের তথ্য সংশোধনের জন্য পোর্টাল পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে, তাই তাঁর মতো যাঁরা সময়মতো আবেদন করতে পারেননি, তাঁদেরও নতুন করে আবেদন করার অনুমতি দেওয়া হোক।

আদালতে দু’পক্ষের টানটান সওয়াল-জবাব

  • মামলাকারীর যুক্তি: পর্ষদ যখন অনলাইন পোর্টাল সক্রিয় করেছে, তখন যোগ্য টেট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের বঞ্চিত না করে নতুন আবেদনপত্র জমা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

  • পর্ষদের পাল্টা জবাব: পর্ষদের আইনজীবী আদালতে সাফ জানান, মূল আবেদন প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা আগেই শেষ হয়েছে। বর্তমানে যা চালু রয়েছে, তা কোনো নতুন ফর্ম ফিল-আপের পোর্টাল নয়; বরং নির্ধারিত সময়ে সাফল্যসূচকভাবে জমা পড়া ফর্মগুলির ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার একটি আইনি ‘সংশোধন ব্যবস্থা’ মাত্র।

‘পুরো আইনি শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে!’ কড়া পর্যবেক্ষণ বিচারপতির

উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রিশাদ মেদোরার একক বেঞ্চ মামলাকারীর আর্জি সোজাসুজি নাকচ করে দেন।

আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন:

  1. ভুল সংশোধন ও নতুন আবেদন এক নয়: তথ্য সংশোধনের সময়সীমা এবং নতুন করে আবেদনপত্র গ্রহণের পোর্টাল—এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনি বিষয়। পূর্বে জমা পড়া আবেদনের ভুল সংশোধন করার সুযোগ দেওয়ার মানে এটা কখনই নয় যে নতুন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

  2. সমতার অধিকার বজায় রাখা: নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর যদি কোনো বিশেষ প্রার্থীকে নতুন করে আবেদন করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে সময়মতো ফর্ম পূরণ করতে না পারা হাজার হাজার প্রার্থী একই সুবিধা দাবি করবেন। এর ফলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক ও আইনি শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে এবং যাঁরা সময় মেনে আবেদন করেছিলেন তাঁদের প্রতি চরম অবিচার করা হবে।

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আবেদনের নির্দিষ্ট তারিখ পার হওয়ার পর পর্ষদকে পোর্টাল পুনরায় খোলার নির্দেশ দেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সব দিক খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ (Dismissed) করে দেয়।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *