“৫০ কোটি টাকার ফান্ড থেকে নতুন পুরসভা!” মতুয়াদের জন্য ঠাকুরনগরে কী কী উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

ঐতিহাসিক ঠাকুরনগর মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে জমকালো সূচনা হলো দ্বিতীয় বর্ষ আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনের। আর সেই সম্মেলনেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে একগুচ্ছ নজিরবিহীন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন একাধিকবার ঠাকুরবাড়িতে এলেও, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম মতুয়াদের আঁতুড়ঘরে পা রাখলেন তিনি।

রবিবার দুপুর একটা নাগাদ হেলিকপ্টারে গাইঘাটার চাঁদপাড়া মাঠের হেলিপ্যাডে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর এবং মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রতিনিধিরা। সেখান থেকে যশোর রোড ধরে প্রায় আট কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছালে ডঙ্কা-নিশান ও হরিনাম সংকীর্তনে শুভেন্দুকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হয়। হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর নাটমন্দিরের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।

“মতুয়া সমাজকে বিভক্ত করেছিলেন মমতা”, তোপ শুভেন্দুর

মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনের মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একরাশ তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, “বিগত সরকারের আমলে মতুয়াদের উন্নয়ন তো হয়ইনি, বরঞ্চ তাঁদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার হয়েছে। আগের মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের বিভক্ত করেছেন, পরিবারকে ভেঙেছেন এবং সিএএ (CAA)-র প্রত্যক্ষ বিরোধিতা করেছেন। তৃণমূল জমানায় মতুয়াদের প্রকৃত অধিকার দেওয়া হয়নি।”

একই সাথে রাজ্যে রাষ্ট্রবাদী সরকার গঠনে মতুয়া সমাজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “রাজ্যের ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া সম্প্রদায় আমাদের জয়ী করেছেন। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকদের মতো কাউকে আর ঠাকুরবাড়িতে বিভাজনের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।”

মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মেগা ঘোষণা

ঠাকুরনগরের ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে মতুয়া সমাজের আর্থ-সামাজিক ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য বেশ কয়েকটি বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী:

  • বিনা বিচারে বন্দিদের মুক্তি ও পুনর্বাসন: বনগাঁ, রানাঘাট বা বারাসাত জেলে যদি এমন কোনো মতুয়া বা উদ্বাস্তু মানুষ থাকেন, যিনি দীর্ঘদিন বিনা বিচারে বন্দি, তবে রাজ্য সরকার তাঁর আইনি মুক্তির ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি তাঁদের জন্য জমি এবং বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • ৫০ কোটি টাকার মতুয়া ফান্ড: ‘মতুয়া বোর্ড’ পুনর্গঠন করে মতুয়াদের সার্বিক উন্নয়নে সরাসরি ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। এই ফান্ডের মাধ্যমে মতুয়া সদস্যরা নানা প্রকল্পের আবেদনের সুবিধা পাবেন।

  • ঠাকুরনগরকে নতুন পুরসভা: আগামী রাজ্য বাজেটে ঠাকুরনগরকে পূর্ণাঙ্গ ‘পুরসভা’ হিসেবে ঘোষণা করার আশ্বাস দেন শুভেন্দু।

  • স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো উন্নয়ন: আগামী ৬ মাসের মধ্যে চাঁদপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হবে এবং এটি ‘বড়মা বীণাপাণি দেবী’-র নামে উৎসর্গ করা হবে। এছাড়া ঠাকুরনগরে একটি নতুন মন্দির নির্মাণের ঘোষণাও করেন তিনি।

রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা ঘোষণার পর ঠাকুরনগর জুড়ে মতুয়া ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *