“ঘণ্টায় ১২০ কিমি বেগে আছড়ে পড়বে মুরাসু!” বঙ্গোপসাগরে ভয়াবহ রূপ শক্তিশালী সাইক্লোনের, জারি রেড অ্যালার্ট

বঙ্গোপসাগরে ভয়াল রূপ ধারণ করে আরও শক্তি বাড়াল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। রবিবার (১ নভেম্বর) দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থান করার পর থেকেই এটি দ্রুত তীব্রতা অর্জন করছে। পরিস্থিতি গুরুত্ব বিচার করে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং সংলগ্ন উত্তর তামিলনাড়ু উপকূলে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক সাইক্লোন অ্যালার্ট জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। একই সাথে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশাও।
কখন ও কোথায় আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’?
আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ২৩ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে এগোচ্ছে ‘মুরাসু’। এই মুহূর্তে চেন্নাই থেকে ৫৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং নেল্লোর থেকে ৬৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে কেন্দ্রবিন্দু তৈরি করেছে এই সাইক্লোন।
হাওয়া অফিসের সঙ্কেত অনুযায়ী, আগামী ২ নভেম্বর সকালে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে (Severe Cyclonic Storm) রূপান্তরিত হবে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর মধ্যরাত (১১:৩০ টা) থেকে ৩ নভেম্বর ভোরে (সকাল ৪টে)-র মধ্যে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা। ল্যান্ডফলের সময় মারণ ঝড়ের স্বাভাবিক গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ার সাথে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
দক্ষিণ ওড়িশায় ‘হাই অ্যালার্ট’, চলছে গণ-উচ্ছেদ
অন্ধ্রপ্রদেশে ল্যান্ডফল হলেও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশার ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টি ও বিধ্বংসী ঝড়ের আশঙ্কায় দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলিতে ‘হাই অ্যালার্ট’ ঘোষণা করেছে ওড়িশা প্রশাসন। রাজ্যের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সুরেশ পুজারি জানিয়েছেন, পাহাড়ি এলাকা এবং নিচু ও বিপজ্জনক স্থানে বসবাসকারী বাসিন্দাদের দ্রুত সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক দিন আগে (২৮ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর ধাক্কায় গঞ্জাম এবং গজপতি জেলায় চরম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ‘মুরাসু’-র আগমনে তৎপরতা তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী দল NDRF এবং ODRAF-কে। ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে ‘মুরাসু’?
পশ্চিমবঙ্গে এই ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস নেই বললেই চলে। তবে পরোক্ষ প্রভাবে দুই বঙ্গেই বদলাবে আবহাওয়ার মেজাজ।
-
উত্তরবঙ্গ: দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।
-
দক্ষিণবঙ্গ: কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ২ ও ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলায় এই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।