“রাজবীর করলে খুন, জিতু করলে খুনসুটি!” বিগ বস বাংলায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে তোলপাড় নেটপাড়া!

জনপ্রিয়তার নিরিখে হিন্দি ও অন্যান্য ভাষাকে বহু আগেই পিছনে ফেলে দিয়েছে ‘বিগ বস’ বাংলা সিজন ৩। শুরুর দিন থেকেই প্রতিযোগীদের ক্যাটফাইট, ইমোশন এবং স্ট্র্যাটেজিতে বুঁদ হয়ে রয়েছে দর্শককুল। তবে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে অভিনেতা রাজবীর দে এবং জিতু কমলের প্রবেশের পর থেকেই ঘরের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। প্রথম দিকে এই দুই তারকার ‘ব্রাদারহুড’ বা ভাইচারা দর্শকের মন জয় করলেও, সম্প্রতি ‘দাদার দরবার’-এ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য ও বিগ বসের অন্দরের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
দর্শকদের একাংশের তীব্র অভিযোগ, শোয়ের ভেতরে রাজবীর ও জিতুর প্রতি আলাদা মাপকাঠি বা ‘দ্বিচারিতা’ (Double Standards) বজায় রাখা হচ্ছে। একই ধরনের আচরণের জন্য যেখানে রাজবীরকে ভর্ৎসনা করা হয়, ঠিক সেই একই কাণ্ড জিতু করলে তাকে স্রেফ ‘খুনসুটি’ বলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে!
‘অসুস্থ হওয়া পর্যন্ত জলে রাখো!’ জিতুর মন্তব্য ঘিরে চরম বিতর্ক
সম্প্রতি লাক্সারি বাজেট টাস্ক চলাকালীন জিতু কমলের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নেটপাড়ায় আগুন জ্বলেছে। দর্শকদের একাংশের দাবি, রাজবীরকে দীর্ঘ সময় জলের মধ্যে আটকে রেখে চাবি খোঁজার যে পরিকল্পনা জিতু করেছিলেন এবং সেই সংক্রান্ত মন্তব্য—বিশেষ করে “যতক্ষণ না অসুস্থ হয়ে যায়”—তা অত্যন্ত আপত্তিকর ও নিন্দনীয়।
নেটিজেনদের প্রশ্ন, রাজবীর যদি কখনো এই ধরনের মন্তব্য করতেন, তবে তাঁকে ঘরের নিয়মের বাইরে গিয়ে বড় শাস্তি পেতে হতো। কিন্তু জিতুর বেলায় নির্মাতারা বা সঞ্চালক যেন অন্ধ! এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ট্রোলিং শুরু হয়েছে। দর্শকদের ক্ষোভ, “রাজবীর করলে সেটা অপরাধ, আর জিতু করলে সেটা নেহাতই মজা—এ কেমন দ্বিচারিতা?”
পুরোনো অশান্তি এবং বিতর্ক ফের উসকে উঠল
জিতু ও রাজবীরের এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন টাস্কে নারীদের উদ্দেশ্য করে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য এবং পুতুল বা ‘গুড়িয়া’ নিয়ে খেলার প্রসঙ্গ টেনে জিতুর কথার ভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দর্শকরা। এমনকি অতীতেও জিতুর কিছু মন্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা কম হয়নি।
এবার লাক্সারি বাজেট টাস্কের এই ঘটনা সেই পুরোনো ক্ষতে ফের নুন ছড়িয়ে দিয়েছে। দর্শকদের একটি বড় অংশের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রতিযোগীর নাম বা জনপ্রিয়তা দেখে বিগ বসের নিয়ম বদলানো উচিত নয়। কারোর স্বাস্থ্য বা শারীরিক ক্ষতি হতে পারে—এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরির হুমকি দেওয়া কখনোই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। নিয়ম ভাঙলে বা বাড়াবাড়ি করলে সকলের জন্যই সমান শাস্তির বিধান থাকা দরকার।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাদার দরবার’-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন!
এই গোটা পরিস্থিতিতে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে শোয়ের সঞ্চালক তথা মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। দর্শকদের একাংশের দাবি, রাজবীরের কোনো আচরণে সামান্য ভুলত্রুটি দেখলেই যেমন ‘দাদার দরবার’-এ কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করেন সৌরভ, ঠিক তেমনই জিতুর এই ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য ও আচরণের ক্ষেত্রেও সমানভাবে সমালোচনা করা উচিত।
দর্শকরা এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছেন উইকেন্ড এপিসোডের দিকে। দাদার দরবারে আদৌ কি জিতুর এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে? নাকি এই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এড়াতে কোনো বড় পদক্ষেপ নেবে চ্যানেল? উত্তর মিলবে শনিবারের এপিসোডেই।