“এবার বদলে যাবে দেশের মানচিত্র!”-ইসরোর ঐতিহাসিক জয়ে কেন এমন বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?

মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আবারও বিশ্বমঞ্চে ভারতের জয়জয়কার! সুদূর মহাকাশে আমেরিকার জিপিএস (GPS)-কে কড়া টেক্কা দিতে নিজেদের অত্যন্ত আধুনিক ও শক্তিশালী নেভিগেশন স্যাটেলাইট ‘NVS-03’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)।

GSLV-F18 রকেটে চেপে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে গিয়েছে ভারতের এই নতুন ‘মহাকাশ চোখ’। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর ইসরোর বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীদের হৃদয়ভেজা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠায় গর্বিত দেশ: মোদী

উৎক্ষেপণ সফল হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম X-এ (প্রাক্তন টুইটার) এক বার্তায় ভারতীয় বিজ্ঞানীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লেখেন:

“আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা এবং নিত্যনতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের শক্তি প্রতিনিয়ত দেশকে গর্বিত করে চলেছে। এই মিশনের সঙ্গে যুক্ত ইসরোর প্রতিটি সদস্যকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন।”

প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, এই সফল উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘NavIC’-কে বহুগুণ শক্তিশালী করবে। প্রযুক্তির দিক থেকে বিশ্বমঞ্চে ভারতের ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার লক্ষ্যে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা সাধারণ মানুষের নেভিগেশন পরিষেবা থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তায় বৈপ্লবিক বদল আনবে।

উৎক্ষেপণের ২০ মিনিটে বাজিমাত!

শুক্রবার গভীর রাতে (রাত ১১টা ৫১ মিনিটে) অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে গর্জে ওঠে GSLV-F18 রকেট। উৎক্ষেপণের মাত্র ২০ মিনিটের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই প্রায় ২,২৫০ কেজি ওজনের NVS-03 উপগ্রহটিকে তার নির্দিষ্ট ‘জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিট’ (GTO)-এ নিখুঁতভাবে স্থাপন করা হয়।

মিশন সফল হওয়ার কথা ঘোষণা করেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ইসরোর চেয়ারম্যান ডঃ ভি নারায়ণন। এটি ছিল ইসরোর শক্তিশালী GSLV রকেটের ২০তম সফল উড়ান।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই NVS-03?

NVS-03 হলো ইসরোর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিরিজের তৃতীয়তম সদস্য। বর্তমানে দৈনন্দিন যাতায়াত, বাণিজ্য, পরিবহণ থেকে শুরু করে দেশের সামরিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে নেভিগেশন পরিষেবা অত্যন্ত জরুরি।

এতদিন পর্যন্ত ভারতকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদেশি জিপিএস-এর ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু NVS-03 কক্ষপথে সফলভাবে সক্রিয় হওয়ার ফলে ভারতের নিজস্ব NavIC ব্যবস্থার পরিধি এবং নির্ভুলতা বহুগুণ বেড়ে গেল। ফলে নেভিগেশন ও সঠিক সময় নির্ধারণের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ভারত এখন সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *