মাত্র ৩০ টাকার ‘পকেট পরোটা-‘রাজু দা’র পরোটার দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতর, কী পাওয়া গেল?

সোশাল মিডিয়ার দৌলতে আজকাল খাদ্যরসিকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম ‘রাজুর পকেট পরোটা’। মাত্র ৩০ টাকায় ৩টে পরোটা, আনলিমিটেড তরকারি আর ডিম সেদ্ধ—সব মিলিয়ে শিয়ালদহ এনআরএস হাসপাতাল সংলগ্ন রাজু ঘোষের দোকানে প্রতিদিন ভিড় জমাতেন শত শত মানুষ। কিন্তু এই জনপ্রিয় সস্তা খাবারের আড়ালে কি বজায় থাকছে স্বাস্থ্যবিধি ও খাবারের সঠিক গুণমান?
সেই সত্য যাচাই করতেই শনিবার সাতসকালে এনআরএস (NRS Medical College and Hospital) হাসপাতাল সংলগ্ন রাজুদার দোকানে হঠাৎ হানা দেন পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। আর সেই অভিযানের পর থেকেই তীব্র জল্পনা—তবে কি এবার বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে রাজুদার বিখ্যাত পকেট পরোটা?
লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল ব্যবসা! খতিয়ে দেখা হল খাবারের গুণমান
অভিযানে গিয়ে আধিকারিকদের নজরে আসে, এতো জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড বিক্রেতার কাছে আদতে কোনও ফুড লাইসেন্সই নেই!
ঘটনাস্থলে উপস্থিত খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা পরোটা, তরকারি, ডিম সেদ্ধ রাখার পাত্র থেকে শুরু করে রান্নায় ব্যবহৃত মশলা এবং পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। রাজু ঘোষ নিজে উপস্থিত থেকে আধিকারিকদের সব কিছু দেখান।
খাদ্য সুরক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানান:
“দোকানের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার (Lab Testing) জন্য পাঠানো হচ্ছে। ল্যাব রিপোর্টের পর জানা যাবে এই খাবারের গুণমান আদৌ মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত কি না।”
কী বললেন রাজুদা?
দোকানে পরিদর্শনের পর পরোটা বিক্রেতা রাজু ঘোষ বলেন, “আমার ফুড লাইসেন্স ছিল না। কীভাবে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে, স্যারেরা তা বুঝিয়ে বলেছেন। আমি দ্রুত আবেদন করব। হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন রাতজাগা রোগীর পরিবার থেকে শুরু করে বহু মানুষ এখানে খান। তাঁদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা আমার দায়িত্ব। পুরসভার পরামর্শে লাল গামছার বদলে পরিষ্কার সাদা গামছা ব্যবহার, ডিম আলাদা পাত্রে রাখা এবং স্যানিটাইজার রাখার ব্যবস্থা করব। ভবিষ্যতে আরও বড় জায়গায় দোকান করার ইচ্ছে আছে।”
পুজোর মুখে পুরসভার অভিযান, কিন্তু বন্ধ কি হচ্ছে পকেট পরোটা?
প্রসঙ্গত, উৎসবের মরশুমে শহরের বিভিন্ন পাইস হোটেল এবং স্ট্রিট ফুডের দোকানে মাঝমধ্যেই অভিযান চালাচ্ছেন পুর আধিকারিকরা। সেই অভিযানে একাধিক দোকানে ধরা পড়েছে ভয়ঙ্কর চিত্র—কোথাও নর্দমার পাশে নোংরা পরিবেশে রান্না, কোথাও বা হলুদে বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার! রান্নাঘর জুড়ে ইঁদুর, আরশোলা আর মাছির দৌরাত্ম্য।
সেই তুলনায় রাজুদার দোকানে এখনই কোনও চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কিংবা দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে বেশ কিছু কড়া নির্দেশিকা ও পরিচ্ছন্নতার পাঠ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এখন দেখার, ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্টে রাজুদার পকেট পরোটার ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়!