‘এক বিন্দু জলও ছাড়া হবে না!’ ভারতকে চরম হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের বিরোধী নেতার, করিডর নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট করিডর তৈরি এবং গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ নিয়ে আবারও ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পারদ চড়ালেন বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে ভারতের সুবিধা নিশ্চিত করতে কোনও ট্রানজিট করিডর তৈরি করা হলে তা দেশের মানুষ কিছুতেই মেনে নেবে না। পাশাপাশি ফরাক্কা ব্যারাজের গঙ্গার জল নিয়ে ভারতের সাথে আপস না করার কড়া বার্তা দিয়ে বড় মাপের গণআন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তিনি।

“ভারতের হাতে বেআইনি করিডর তুলে দেওয়া হচ্ছে!”— বিস্ফোরক নাহিদ

সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন নাহিদ ইসলাম। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ ও ‘বিডিনিউজ২৪’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার তলে তলে ভারতের জন্য করিডর তৈরির পথ সুগম করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

জাপান সফর শেষ করে আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে নাহিদ সরাসরি বলেন,

“জাপান বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে একটি নতুন করিডর তৈরির চেষ্টা করছে, আর সরকার সেই সুযোগে ভারতের হাতে এই বেআইনি করিডর তুলে দেওয়ার ষড়যুদ্ধে লিপ্ত। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য কোনও দেশকে এভাবে সুবিধা দেওয়ার বেআইনি করিডর মেনে নেবে না।”

যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্পষ্ট দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়েই কথা হয়েছে; কোনও তৃতীয় দেশকে নিয়ে কোনও আলোচনা সেখানে হয়নি।

গঙ্গার জলের দাবিতে কঠোর অবস্থান: “এক বিন্দু জলও ছাড় নয়!”

শুধু করিডর নয়, আগামী ১২ ডিসেম্বর ১৯৯৬ সালে সম্পাদিত ভারত-বাংলাদেশ ৩০ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। শুষ্ক মরসুমে (জানুয়ারি থেকে মে) ফরাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার জলের ন্যায্য ভাগ পাওয়া নিয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।

এই চুক্তি পুনর্নবীকরণ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন,

“গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতেই হবে। গঙ্গার এক বিন্দু জল থেকেও বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা চলবে না। ভারত যদি গ্যারান্টি ক্লজ ছাড়া বা অসম শর্তে চুক্তি চাপাতে চায়, তবে বাংলাদেশের জনগণ চুপ করে থাকবে না— আমরা রাজপথে নেমে তার জবাব দেব।”

নজর আন্তর্জাতিক মহলের

উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যকার জলবণ্টন সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা দ্বিপাক্ষিক ‘যৌথ নদী কমিশন’-এর মাধ্যমেই সমাধান হয়ে থাকে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জলচুক্তি ও সীমান্ত ট্রানজিট নিয়ে এই উত্তপ্ত ভারত-বিরোধী সুর আগামী দিনে দুই দেশের কূটনীতিকে কোন মোড়ে দাঁড় করায়, এখন সেদিকেই সতর্ক নজর রাখছে আন্তর্জাতিক ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *