“বয়সের ফারাক ১৪ বছর”-অবশেষে এই শীতেই ছাদনাতলায় চর্চিত জুটি শ্রুতি-স্বর্ণেন্দু!

টেলিপাড়ার অন্যতম চর্চিত ও জনপ্রিয় জুটি অভিনেত্রী শ্রুতি দাস এবং পরিচালক স্বর্ণেন্দু সমাদ্দার। সুদূর বর্ধমান থেকে অভিনয় জগতের স্বপ্ন নিয়ে তিলোত্তমায় আসা এক তরুণীর জীবনকাহিনি হার মানায় যে কোনও সিনেমার গল্পকেও। প্রথম সিরিয়ালের সেটে পরিচয়ের পর পরিচালকের সঙ্গেই সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী। এরপর বহু বাধা-বিপত্তি ও বয়সের ফারাক সংক্রান্ত কটাক্ষ পেরিয়ে অবশেষে এই শীতেই শুভ পরিণয় সারতে চলেছেন এই জুটি।
আইনি বিয়ে ও আংটি বদল আগেই সেরে ফেললেও, এবার একেবারে সাবেকি বাঙালি রীতি মেনে সামাজিক বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন তাঁরা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিয়ের সমস্ত প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং অভিনেত্রী।
শূটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেই বিয়ের তোড়জোড়
এই মুহূর্তে জি বাংলার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘জোয়ার ভাঁটা’-র ‘নিশা’ চরিত্রে অভিনয় নিয়ে বেজায় ব্যস্ত রয়েছেন শ্রুতি। আসছে ডিসেম্বরেই সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন তাঁরা। হাতে সময় কম থাকায় শ্যুটিংয়ের ফাঁকেই চলছে বিয়ের যাবতীয় কেনাকাটা ও প্রস্তুতি।
প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার সুবাদে মেগা সিরিয়াল থেকে মাত্র এক সপ্তাহের ছুটি চেয়েছেন অভিনেত্রী। এর বেশি ছুটি পাওয়া সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি। ২০২৩ সালের আইনি বিয়ের দিন শ্রুতির ছকভাঙা সাজ অর্থাৎ সাদা জামদানি শাড়ি ও রূপোর গয়না বেশ সাড়া ফেলেছিল। তবে সামাজিক বিয়েতে তাঁকে সম্পূর্ণ সাবেকি রূপে দেখা যাবে। লাল বেনারসী শাড়ি আর সোনার গয়নাতেই সাজবেন হবু কনে।
কেন পিছিয়ে গিয়েছিল বিয়ে?
চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পুজোর দিন কাটোয়াতে তাঁদের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেই সময়েই অভিনেত্রীর জেঠু মারা যাওয়ায় কালাশৌচ পড়ে যায়, ফলে বাধ্য হয়েই বিয়ে পিছিয়ে দিতে হয়। তবে এবার আর কাটোয়া নয়, দুই পরিবারের উপস্থিতিতেই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।
আইনি বিয়ের দিনই সিঁদুরদান ও বিয়ের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। তাহলে কি আবারও সিঁদুরদান হবে? এই প্রসঙ্গে শ্রুতির স্পষ্ট জবাব, তিন বছর পর তাঁদের সামাজিক বিয়ে হচ্ছে। আইনি বিয়ের দিন অগ্নিসাক্ষী রেখে মন্ত্র পড়ে গোত্রান্তর বা সম্প্রদান কিছুই হয়নি। তাই সমস্ত হিন্দু রীতি-রিওয়াজ মেনেই আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন তাঁরা। তবে বিয়ের পরপরই হানিমুনে যাওয়ার সুযোগ নেই। টানা মেগা সিরিয়ালের কাজ চলার কারণে আপাতত মধুচন্দ্রিমার পরিকল্পনা মুলতুবি রাখছেন এই নবদম্পতি।
আইবুড়োভাত থেকে ভালোবাসার দীর্ঘ সফর
সম্প্রতি ‘জোয়ার ভাঁটা’ সিরিয়ালের কলাকুশলীরা সেটে ঘটা করে আইবুড়োভাত খাইয়েছেন শ্রুতিকে। মাছ, মাংস, ফিসফ্রাই, মুগ ডাল, পাঁচ রকম ভাজা থেকে শুরু করে মিষ্টি-দই—সব মিলিয়ে কবজি ডুবিয়ে সেই ভোজের আনন্দ উপভোগ করেছেন তিনি।
‘ত্রিনয়নী’ সিরিয়াল দিয়ে কেরিয়ার শুরু করা শ্রুতি এরপর ‘দেশের মাটি’, ‘রাঙা বউ’ পেরিয়ে বর্তমানে ‘জোয়ার ভাঁটা’-য় নিজের দাপট বজায় রেখেছেন। এমনকি শিবপ্রসাদ-নন্দিনীর ‘আমার বস’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় ডেবিউও করেছেন তিনি। ২০১৯ সাল থেকে স্বর্ণেন্দুর সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন শ্রুতি। বয়সের ১৪ বছরের ফারাক এবং পরিবারের অমত—সব বাধা কাটিয়ে অবশেষে এক ছাদের নিচে আসার অপেক্ষায় এই জুটি।