চোরবাগান দুর্ঘটনায় ভিনরাজ্যের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী! বিডিও কলে কথা বলে ৫০ লক্ষ টাকার বড় আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা

উত্তর কলকাতার চোরবাগানে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো বিহারের মুজফ্ফরপুরের বাসিন্দা বাবা ও ছেলের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির স্বজনহারা পরিবারের জন্য মোট ৫০ লক্ষ টাকার বড় আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করা হয়েছে। নিহত বাবা ও ছেলের জন্য পৃথকভাবে ২৫ লক্ষ টাকা করে দুটি চেক মন্ত্রীর হাত দিয়ে সরাসরি বিহারে তাঁদের পরিজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার।
চোরবাগান দুর্ঘটনার হৃদয়বিদারক স্মৃতি সম্প্রতি চোরবাগানের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মোট ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন এ রাজ্যেরই বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পরপরই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নিজে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সেই ১৭টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়েছিলেন। তবে সেই বিপর্যয়েই প্রাণ হারিয়েছিলেন ভিনরাজ্যের দুই শ্রমজীবী মানুষ—যাঁরা সম্পর্কে ছিলেন বাবা ও ছেলে।
জীবিকার তাগিদে বিহারের মুজফ্ফরপুর থেকে কলকাতায় আসা এই পরিবারের দুই প্রধান রোজগেরে মানুষকে এক লহমায় হারিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছিল উত্তর বিহারের দুস্থ পরিবারটি।
ভিডিও কলে সমবেদনা ও ৫০ লক্ষ টাকার সহায়তা পরিবারটির করুণ অবস্থার কথা জানতে পেরেই তৎক্ষণাৎ প্রশাসনিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী নিজে সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে মুজফ্ফরপুরের ওই শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সান্ত্বনা দেন। এই চরম সংকটের দিনে রাজ্য সরকার যে সবরকমভাবে তাঁদের পাশে থাকবে, সেই আশ্বস্ত করেন তিনি।
এরপরই নিহত বাবা ও ছেলের নামে ২৫ লক্ষ টাকা করে মোট ৫০ লক্ষ টাকার দুটি পৃথক চেক মঞ্জুর করা হয়। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের হাতে এই অর্থ তুলে দেওয়ার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
মানবিকতার বার্তা সরকারের সহায়তার নির্দেশ পেয়ে মন্ত্রী উমেশ রাই জানান, “একই পরিবারের দুই উপার্জনকারী সদস্যকে এক নিমেষে হারানোর যে যন্ত্রণা, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বিহারের ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী আবারও তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিলেন।” তিনি আরও যোগ করেন, দ্রুততার সঙ্গে এই চেক বিহারে পাঠিয়ে পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়ার সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।