১৩ বছর পর বাড়ল অটোর ভাড়া, তবুও কেন চটেছেন চালকরা? নতুন তালিকা ঘিরে তুমুল বিতর্ক!

: দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর অটোরিকশার সরকারি ভাড়া সংশোধনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল তামিলনাড়ু সরকার। তবে সরকারের এই নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ পেতেই চেন্নাই সহ গোটা রাজ্য জুড়েই তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে যেমন চালকদের দাবি, লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই বৃদ্ধি প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম; অন্যদিকে যাত্রীদের আশঙ্কা, কড়া সরকারি নজরদারি না থাকলে নতুন তালিকার সুবিধাও তাঁরা পাবেন না।
কী রয়েছে সরকারের নতুন ভাড়ার তালিকায়? গত মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী:
-
ন্যূনতম ভাড়া (প্রথম ১.৮ কিমি): ৫০ টাকা (আগে ছিল ২৫ টাকা)।
-
পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার: ২৫ টাকা (আগে ছিল ১২ টাকা)।
-
পাহাড়ি এলাকায় ভাড়া: বেস ফেয়ার ৬০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারে ৩০ টাকা।
-
রাতের ভাড়া (রাত ১০টা – ভোর ৫টা): ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত বাড়তি চার্জ।
-
ওয়েটিং চার্জ: প্রতি মিনিটে ১ টাকা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে শেষবারের মতো অটোরিকশার সরকারি হার সংশোধন করা হয়েছিল।
কেন অসন্তোষ প্রকাশ করছেন চালক সংগঠনগুলি? দীর্ঘ ১৩ বছর পর ভাড়া বাড়ানো হলেও চালকদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। অটো ইউনিয়নগুলির বক্তব্য, গত এক দশকে চেন্নাইয়ে জ্বালানির (পেট্রোল, ডিজেল, সিএনজি) দাম আকাশ ছুঁয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গাড়ির যন্ত্রাংশের দাম, পারমিট ফি ও সংসার চালানোর খরচ।
চালকদের একটি অংশ জানাচ্ছেন, এতদিন সরকারি তালিকার তোয়াক্কা না করে ২-৩ কিলোমিটারের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছিল। এখন সরকারি রেট মেনে মিটার চালু হলে উল্টে তাঁদের দৈনিক আয় অনেকটাই কমে যাবে। তাই ন্যূনতম ও প্রতি কিলোমিটারের হার আরও বেশি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
যাত্রীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নজরদারির দাবি এদিকে সাধারণ যাত্রীদের মতে, নতুন তালিকার ফলে দূরপাল্লার যাত্রায় খরচ অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। তবে মূল সমস্যা হলো মিটারের বাস্তবায়ন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নতুন নিয়ম সত্ত্বেও চালকরা যদি ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকাতে থাকেন, তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
যদিও অনিয়ম রুখতে এবং বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে প্রশাসনের তরফে বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর (১৮০০ ৪২৫ ৫৪৩০) চালু করা হয়েছে, তবুও উপযুক্ত মিটার ক্যালিব্রেশন এবং রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের কড়া নজরদারি ছাড়া যাত্রীভোগান্তি কমানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।