প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অজয় নদে বালি পাচারের তাণ্ডব! পুলিশের হানায় পালালো মাফিয়ারা, নেপথ্যে বিস্ফোরক তথ্য

রাজ্যে পালাবদল হলেও বদলায়নি নদীগর্ভ থেকে বেআইনি বালি উত্তোলন ও মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের চিত্র। বিশেষ করে বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে বালি মাফিয়াদের রমরমা কারবার অব্যাহত। বর্ষার কারণে আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত নদী থেকে বালি তোলার ওপর সম্পূর্ণ সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, ইলামবাজারের অজয় নদ থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালি তুলে দেদার পাচার করা হচ্ছে।
অভিযানের মুখে চম্পট মাফিয়াদের অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিনের আলোতেই নদীর বুকে নামানো হচ্ছে বিশাল আকারের জেসিবি ও ওভারলোডেড ট্রাক। বেআইনি কারবারের খবর পেয়ে শুক্রবার ইলামবাজার থানা এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকরা যৌথভাবে শুকডালা, বিল্লমঙ্গল, শীর্ষা ও জয়দেবের খাদানগুলিতে অভিযান চালান। তবে প্রশাসনকে দেখামাত্র এলাকা ছেড়ে সাময়িকভাবে পালিয়ে যায় বালি মাফিয়ারা।
‘লোকদেখানো অভিযান’, বিস্ফোরক বিজেপি সভাপতি পুলিশের এই অ্যাকশনকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, এই অভিযান নেহাতই ‘লোকদেখানো’। তিনি দাবি করেন, “বালি তোলা হয়ে যাওয়ার পর পুলিশ অ্যাকশন মুডে নেমেছে! এত লেবার ও মেশিন যখন নামছিল, পুলিশের ইনফরমাররা আগে খবর পেল না কেন? এর পেছনে পুলিশ প্রশাসন এবং বিজেপি-তে নতুন আসা কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশ স্পষ্ট।” পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী যে কোনো দিন নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সীমানা কৌশলে সক্রিয় মাফিয়া সিন্ডিকেট বীরভূমের অজয়, ময়ূরাক্ষী, দ্বারকা ও কোপাইয়ের মতো নদীগুলি থেকে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বালি তোলার ফলে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার পাশাপাশি নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যার আশঙ্কা বাড়ছে। তাছাড়া, বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের সীমানা হিসেবে ব্যবহৃত অজয় নদের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগাচ্ছে মাফিয়ারা। বীরভূম পুলিশ হানা দিলে তারা পশ্চিম বর্ধমানে পালাচ্ছে, আবার পশ্চিম বর্ধমান পুলিশ এলে তারা ঢুকে পড়ছে বীরভূমে। ফলে দুই জেলার যৌথ টাস্ক ফোর্সের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রাজ্যে পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ রাজ্য নেতৃত্বের তরফে বেআইনি বালির কারবার বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে সস্তায় বালি দেওয়ার বার্তা দেওয়া হলেও, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলেই স্থানীয়দের ক্ষোভ। যদিও জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক দাবি করেছেন, “বেআইনি কারবার রুখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”