উত্তরাখণ্ড-গুজরাতের পর এবার অসমেও কড়া আইন! ইউসিসি কার্যকর করতে কমিটি গঠন হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকারের

দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির পথ অনুসরণ করে এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) কার্যকর করার দিকে আরও এক ধাপ এগোল অসম সরকার। রাজ্যে ইউসিসি রূপায়ণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিশেষ আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যেই ইউসিসি-র সম্পূর্ণ খসড়া তৈরি করবে।

দেশজুড়ে ইউসিসি রূপায়ণে অমিত শাহের ঘোষণা
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, দেশের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে এনডিএ সরকার দ্রুত ইউসিসি লাগু করবে এবং আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই তা সারা দেশে কার্যকর করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতের পর এবার হিমন্ত বিশ্বশর্মার রাজ্যও সেই পথে হাঁটছে।

অসমে ইউসিসি বিল ও খসড়া কমিটির তৎপরতা
চলতি বছরের গত ২৭ মে অসম বিধানসভায় পাশ হয় ‘দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, অসম, ২০২৬ বিল’। এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হলো—ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তিগত উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজ্যে একটি সাধারণ ও অভিন্ন আইন প্রণয়ন করা।

বর্তমানে বিলটি চূড়ান্ত সম্মতির জন্য মহামহিম রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পাঠানো হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর অসম সরকারের স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অজয় তিওয়ারি এই মর্মে একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। নবগঠিত আট সদস্যের খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতরের সচিব দেবা প্রসাদ মিশ্রকে।

এই কমিটিতে অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—

ফিনান্স স্পেশাল কমিশনার ও সচিব পার্থপ্রতিম মজুমদার

বিধানসভার সচিব গীতাঞ্জলি ডি সাইকিয়া

সংখ্যালঘু কল্যাণ ও উন্নয়ন দফতরের সচিব ফরিদা সামসুল

স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দফতরের অতিরিক্ত সচিব মৃদুলকুমার দাস

ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হয়ে যাওয়ায়, অসম হতে চলেছে দেশের তৃতীয় রাজ্য যেখানে এই আইন পূর্ণাঙ্গভাবে রূপায়িত হতে চলেছে।

আইনে থাকছে কঠোর শাস্তির বিধান
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বাধীন অসম সরকার এর আগেই রাজ্যে বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করার ঐতিহাসিক বিল এনেছিল। পাশাপাশি, নতুন এই ইউসিসি বিলের মাধ্যমে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলে তা সরকারের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করার নিয়ম আনা হয়েছে।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ইউসিসি-র খসড়া প্রস্তাবে বেশ কিছু কঠোর শাস্তিমূলক বিধান রাখা হচ্ছে:

তফশিলি উপজাতিদের ছাড়: অসমে বসবাসকারী তফশিলি উপজাতি (ST) ভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই বিলের নিয়মগুলি কার্যকর হবে না।

বহু বিবাহে কড়া সাজা: রাজ্যে দ্বিতীয় বা বহু বিবাহের মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাবাসের সাজা ভোগ করতে হতে পারে।

লিভ-ইন রেজিস্ট্রেশনে জেল: নিয়ম অমান্য করে লিভ-ইন সম্পর্ক সরকার বা প্রশাসনের কাছে নথিভুক্ত না করলে তিন মাসের জেলের বিধান থাকতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *