পরকীয়ার জেরে ঘুমন্ত স্বামীকে খুনের চেষ্টা স্ত্রীর! জিম ট্রেনারকে নিয়ে ঘরে ঢুকে যা করলেন, জানলে শিউরে উঠবেন

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এক ভয়ঙ্কর ও লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ। পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে পথের কাঁটা স্বামীকে চিরতরে সরাতে জিম ট্রেনারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন খোদ স্ত্রী! শুধু পরিকল্পনা করাই নয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সোজা ঘরের মধ্যে ঢুকে ঘুমন্ত যুবককে এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ মারেন অভিযুক্ত জিম ট্রেনার ও স্ত্রী মিলে। তবে কপালজোরে ও চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন ওই যুবক।

কোথায় এবং কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৬ অক্টোবর সকালে গাজিয়াবাদের বসুন্ধরা সেক্টর ওয়ানের জাগৃতি রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সোসাইটিতে। আক্রান্ত যুবকের নাম শশাঙ্ক শর্মা। পুলিশ জানিয়েছে, শশাঙ্কের স্ত্রী প্রিয়া জিমে যাওয়ার নাম করে ওই দিন সকালে বাড়িতে ফাঁকা সুযোগ তৈরি করেন। সেই সুযোগেই বাড়িতে আসেন অভিযুক্ত জিম ট্রেনার প্রতাপ সিং। বাড়িতে ঢুকেই কোনো কথা না বলে শশাঙ্কের ওপর অতর্কিত হামলা চালান প্রতাপ ও প্রিয়া। ধারাল ছুরি দিয়ে শশাঙ্ককে উপর্যুপরি কোপানোর পর ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীদের তৎপরতা
আক্রমণের সময় শশাঙ্কের আত্মচিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীরা সতর্ক হন এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তমাখা অবস্থায় শশাঙ্ককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাঁকে গাজিয়াবাদের যশোদা মেডিসিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তৎপরতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্ত্রী প্রিয়া এবং জিম ট্রেনার প্রতাপ সিংকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরকীয়া ও খুনের ছকের নেপথ্যের আসল সত্যি
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির বাসিন্দা শশাঙ্কের সঙ্গে প্রায় চার বছর আগে প্রিয়ার বিয়ে হয়েছিল। দুজনেই পেশায় অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে দিল্লিতে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে বসুন্ধরায় থাকতেন। উল্লেখ্য, এটি ছিল প্রিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে; প্রথম বিবাহবিচ্ছেদের পর শশাঙ্কের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রতাপ স্থানীয় একটি জিমের ট্রেনার। গত সাত-আট মাস ধরে ওই জিমে শরীরচর্চা করতে যেতেন প্রিয়া। জিম করতে করতেই প্রতাপের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং সেই সম্পর্ক পরবর্তীতে গভীর প্রেমে রূপ নেয়। হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত চ্যাটিংয়ের পাশাপাশি প্রতাপ পুলিশকে জেরায় জানিয়েছে যে, প্রিয়াকে বিয়ে করার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।

খুনের আগের রাতের চ্যাট ও পরিকল্পনা
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, সম্প্রতি স্ত্রীর এই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জেনে ফেলেছিলেন স্বামী শশাঙ্ক। এমনকি দিওয়ালির সময় দিল্লি থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হওয়ারও পরিকল্পনা চলছিল। এই খবর জানাজানি হতেই শশাঙ্ককে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ভয়ংকর ছক কষেন প্রিয়া ও প্রতাপ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর গভীর রাতে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটেই দুজনে মিলে শশাঙ্ককে খুন করার পাকা পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা মতোই ২৬ অক্টোবর সকালে মর্নিং ওয়াকে বের হওয়ার নাটক করে প্রিয়া বাড়িতে ফিরে আসেন এবং জিম ট্রেনার প্রতাপকে ঘরে ঢুকিয়ে স্বামীর ওপর এই নৃশংস হামলা চালান। বর্তমানে দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করছে গাজিয়াবাদ পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *