হিমবাহ গলানো জলের স্রোতে ভাসছে ভুটান! হুড়মুড়িয়ে ধেয়ে আসছে প্লাবন, বাংলা ও অসমের জন্য বড় বিপদের ঘণ্টা

নেপালের সর্বগ্রাসী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও টাটকা মানুষের মনে। সেই ভয়াবহ স্মৃতির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভারতের আর এক প্রতিবেশী দেশ ভুটান থেকে এল চরম উদ্বেগের খবর। ভুটানের তিব্বত লাগোয়া লায়া অঞ্চলে হিমবাহ-হ্রদে বড় ধরনের ভাঙন বা ‘গ্ল্যাসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ (GLOF)-এর জেরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আর এই ঘটনার পর থেকেই বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে পশ্চিমবঙ্গ তথা উত্তরবঙ্গ।

ভুটানে হিমবাহ ধস ও মো নদীতে প্লাবনের আশঙ্কা
২০২১ সালে ভুটানের ১৭টি হ্রদকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছিল প্রশাসন। যার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘শিনটাফু’ লেক। অবশেষে সেই লেকেই বড়সড় ভাঙন ধরেছে। এর ফলে জল, মাটি ও পাথরের পাহাড়প্রমাণ স্রোত হুড়মুড়িয়ে নেমে আসছে ভুটানের মো (Mo) নদীতে। ভুটানের সরকারি রিপোর্ট বলছে, ওই লেক থেকে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘন মিটার জল একলাফে নদীতে ঢুকে পড়েছে। যার জেরে মো নদী এখন সম্পূর্ণ বানভাসী। নদীর স্বাভাবিক বহনক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত জল এসে পড়ায় যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের হড়পা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সঙ্কোশ নদী হয়ে ভারতে প্রবেশের আশঙ্কা, বাংলা-অসম সীমান্তে সতর্কতা
ভুটানের এই মো নদীই পরবর্তী সময়ে ‘পুনাসাংচু’ নামে প্রবাহিত হয়েছে, যার ওপর একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ভারত-ভুটান যৌথ উদ্যোগে তৈরি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তীতে এই পুনাসাংচুই ‘সঙ্কোশ’ নদী হিসেবে বাংলা ও অসমের সীমানা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। ভুটান সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই ভারতে জরুরি সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়েছে। যার জেরে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং অসমের সঙ্কোশ নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলিতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। নদীর জলস্তর বাড়ার ওপর প্রতি মুহূর্তে কড়া নজর রাখছে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন (Central Water Commission)। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলোকে (NDRF/SDRF)।

বাঁধের জল ছাড়ায় বাড়তির দিকে জলের মাত্রা
হড়পা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়াতে পুনাসাংচু-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে বাঁধের জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই বিপুল পরিমাণ জল সঙ্কোশ নদী দিয়েই ভারতে নামবে। এর ওপর আবার আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অর্ণব-পরবর্তী নিম্নচাপের জেরে যদি দক্ষিণ ভুটান ও ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ারে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়, তবে আগামী ২৪ ঘণ্টা আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও অসমের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষকে চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে কাটাতে হবে। প্রকৃতির এই নতুন কোপ থেকে উত্তরবঙ্গকে রক্ষা করতে এখন থেকেই সবরকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *