৫ আগস্টের আগেই নড়েচড়ে বসেছিল ছাত্রনেতারা! গোপন যোগাযোগের বিস্ফোরক দাবি ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আগেই কি ঠিক হয়েছিল সরকার বদলের ছক? ইউনূসের প্রাক্তন প্রেস সচিবের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির নেপথ্যে কি অনেক আগে থেকেই কোনো সুনির্দিষ্ট ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল? সম্প্রতি এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি সামনে এনেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের প্রাক্তন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তাঁর দাবি, হাসিনা যখন পূর্ণ ক্ষমতায় আসীন, সেই সময়ই নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছিলেন ছাত্রনেতারা। আর সেই আলোচনার মূল উদ্দেশ্যই ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য ইউনূসকে রাজি করানো।
৫ আগস্টের দু’দিন আগেই হয়েছিল গোপন আলোচনা!
শফিকুল আলমের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মাত্র দুই দিন আগেই এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি এতই গোপনে পরিচালিত হয়েছিল যে, তৎকালীন সরকারের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে এই যোগাযোগ রক্ষা করা হয়।
ইউনূসের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের এই সেতু বন্ধনের নেপথ্যে কে ছিলেন? আলমের দাবি, এএফপি (AFP)-র ঢাকা দফতরের তৎকালীন ফ্যাক্ট-চেক দলের সম্পাদক কাদারুদ্দিন শিশির এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন। ছাত্রনেতারা ইউনূসের কাছে নিজেদের প্রস্তাব পাঠাতে চান এবং শিশিরই সেই প্রস্তাব পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি, সেই উত্তাল সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে চলা হিংসা ও নিপীড়নের ডিজিটাল প্রমাণ বা ভিডিও সংগ্রহ করতেও শুরু করেছিলেন তিনি।
ক্ষমতার পালাবদল থেকে বর্তমান পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, ইউনূস সরকারের ভূমিকা এবং তাদের জমানার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা সাজাচ্ছে এবং দেশে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্ক ও উত্তাপ যে আন্তর্জাতিক স্তরেও ছড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।