“নানুরে গিয়ে দেখব”—কাজল শেখের বাড়িতে পুলিশ, চলছে তল্লাশি, কারণ কী?

একদিকে নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গ উত্তেজনা, আর ঠিক তার পরপরই বীরভূমের রাজনীতিতে ঘটে গেল চরম নাটকীয় মোড়! বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বীরভূমের নানুরের পাপুরি গ্রামে হাঁসনের তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখের বাড়িতে আচমকাই হানা দিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে তাঁর ভাইপো ফিলিপ শেখের বাড়িতেও। সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলার জেরেই এই তল্লাশি অভিযান। ইতিমধ্যেই ভাইপোর বাড়ি থেকে বেআইনি অস্ত্র ও একাধিক তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী হিংসার বেশ কিছু পুরোনো অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তল্লাশি অভিযান চলাকালীন বিধায়কের ভাইপো ফিলিপ শেখের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রাণঘাতী কার্তুজ। তবে এই অভিযানের বিষয়ে বীরভূম জেলা পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

পুলিশ যখন তাঁর নানুরের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে, তখন সশরীরে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না কাজল শেখ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “আমি আপাতত বীরভূমে নেই, কর্মসূচিতে কলকাতায় অবস্থান করছি। কী কারণে পুলিশ হঠাৎ আমার বাড়িতে তল্লাশি চালাল, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। খুব শীঘ্রই নানুরে ফিরে পুরো বিষয়টির খোঁজ খবর নেব।”

উল্লেখ্য, গত গতকাল কালীঘাটে আয়োজিত তৃণমূলের বিজয়া সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন কাজল শেখ। আর তার পরদিনই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিধানসভায় আসার পথে তাঁর দুই সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করে নেয় নবান্ন। এর পরেই নিজের নিরাপত্তা চেয়ে তড়িঘড়ি বিধানসভার স্পিকারের (অধ্যক্ষ) দ্বারস্থ হন ঋতব্রত-পন্থী এই বিধায়ক।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে কাজল শেখের সুরক্ষায় ৬ জন নিরাপত্তারক্ষী ও পিএসও মোতায়েন ছিল। ২০২৩ সালে জেলা পরিষদের সভাধিপতি হওয়ার পর তাঁকে ‘ওয়াই’ (Y) ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এমনকি ২০২৬ সালের শুরুতেই সেই ক্যাটেগরি বাড়িয়ে ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া ও ঠিক তার পরপরই পুলিশি হানা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

কাজল শেখের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন প্রসঙ্গে বেলেঘাটার বিধায়ক তথা মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ শাসকদল ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, “কেন হঠাৎ ওঁর নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হলো? বিধানসভায় মিষ্টি খাওয়া কেন্দ্র করে এত দিন কত না নাটক দেখলাম! এখন সব পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে—ওদের কেবল নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে সরকার খেলা খেলছে।”

একদিকে নিরাপত্তারক্ষী ছাঁটাই, অন্যদিকে ভাইপোর বাড়ি থেকে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার— দুইয়ে মিলে বীরভূমের রাজনীতিতে কাজল শেখের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *