এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি ছোড়েন? ১২০ কিমি গতিতেও আর কাটবে না চালান! বিরাট ঘোষণা করলেন নীতিন গড়করি

১২০ কিমি গতিতেও আর নোটিশ নয়! এক্সপ্রেসওয়েতে স্পিড লিমিট নিয়ে বড় স্বস্তি দিয়ে বড় ঘোষণা নীতিন গড়করির
এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি চালানোর সময় স্পিড লিমিট বা গতির নিয়ম ভাঙার জেরে ঘরে চালান আসার ঝামেলা থেকে চালকদের রেহাই দিতে এবার এক বড়সড় ভাবনা ও নির্দেশনার কথা সামনে আনলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি। তাঁর সাফ কথা, ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে গাড়ি চালালে চালকদের যেন কোনো চালান বা নোটিশ পাঠানো না হয়। এমনকি নির্ধারিত সীমার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি গতিতেও গাড়ি ছাড় দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
কী নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?
কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (CII) একটি অনুষ্ঠানে ভারতের সড়ক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন গড়করি। দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের মতো আধুনিক হাইওয়েগুলিতে সামান্য গতি বাড়লেই চালকদের কাছে একের পর এক ভারী অঙ্কের চালান পৌঁছানোর বিষয়টি সামনে আসার পরই তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী:
-
যে সমস্ত এক্সপ্রেসওয়েতে গতিসীমা ১০০ থেকে ১২০ কিমি প্রতি ঘণ্টা রয়েছে, সেখানে ১২০ কিমি পর্যন্ত গতিতে গাড়ি চালালে কোনো নোটিশ পাঠানো যাবে না।
-
এমনকী নির্ধারিত সীমার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি গতিতেও (অর্থাৎ প্রায় ১৪৪ কিমি পর্যন্ত গতি হলেও) গাড়িগুলিকে ছাড় দিতে হবে। এর বেশি গতি হলে তবেই জরিমানা বা চালান কাটা যেতে পারে।
তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মন্ত্রীর এই মন্তব্য সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশিকা না হলেও, এক্সপ্রেসওয়ের স্পিড লিমিট এবং ট্রাফিক চালানের কড়াকড়ি নিয়ে সাধারণ চালকদের বড় স্বস্তি দিতে পারে। পাশাপাশি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মভঙ্গ আটকাতে দেশজুড়ে এআই (AI) ভিত্তিক অ্যাডভান্সড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ATMS) চালুর ওপরেও জোর দিয়েছেন তিনি।
ইথানল ২০ পেট্রল নিয়ে সমালোচকদের তুলোধোনা গড়করির
এদিন ইথানল ২০ (E20) জ্বালানি ব্যবহার সংক্রান্ত নানা বিতর্ক ও সমালোচনা নিয়েও মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এই জ্বালানি নিয়ে বিগত দিনে ওঠা প্রতিবাদ ও সমালোচনাকে তিনি ‘টাকার বিনিময়ে চালানো স্পন্সরড প্রচার’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেন।
গড়করি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “২০২২ সাল থেকে ৪ কোটি গাড়ি এবং ২০ কোটি দু’চাকার যান এই জ্বালানি ব্যবহার করছে। অথচ তিন মাস আগে ইথানল নিয়ে হঠাতই প্রচুর হইচই শুরু হয়েছিল, আর এখন সব চুপচাপ! গত কয়েক বছর ধরে E20 জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে, দেশের একটি গাড়ির ইঞ্জিনও কি খারাপ হয়েছে? আসলে ওটা সম্পূর্ণ অর্থের বিনিময়ে চালানো একটি অসত্য প্রচার ছিল।”