“সরকারি হাসপাতালেই কাজ করব!” বেসরকারি হাসপাতালের কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ডা. রুথের?

১৫টি হাসপাতাল থেকে প্রত্যাখ্যান, শত বৈষম্য জয়! দেশের প্রথম রূপান্তরকামী দলিত এমডি চিকিৎসক হয়ে ইতিহাস গড়লেন ডা. রুথ

সংগ্রামের পথ যত কঠিনই হোক না কেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই যে আটকে রাখতে পারে না—তা ফের প্রমাণ করে দেখালেন ডা. রুথ (কোয়ালা রুথ জন পল)। সম্প্রতি ‘ইমার্জেন্সি মেডিসিন’ (জরুরি চিকিৎসা বিজ্ঞান) বিষয়ে এমডি (MD) ডিগ্রি অর্জন করেছেন ৩১ বছর বয়সী এই চিকিৎসক। আর এই ডিগ্রি অর্জনের মধ্য দিয়েই তিনি দেশের প্রথম দলিত রূপান্তরকামী (Transgender) মহিলা হিসেবে ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে ফেললেন।

বর্তমানে হায়দরাবাদের সানাতনগরের ইএসআই (ESI) হাসপাতালে সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ডা. রুথের স্বপ্ন এখন একটাই—যেসব মানুষের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই, সরকারি হাসপাতালে থেকে আমৃত্যু তাঁদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা।

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তীব্র বৈষম্য ও সংগ্রাম

তেলেঙ্গানার খাম্মাম জেলায় জন্ম নেওয়া ডা. রুথ জীবনের শুরুতেই নিজের লিঙ্গ পরিচয় সম্পর্কে সচেতন হয়েছিলেন। কিন্তু এই সমাজ তাঁর সেই পরিচয়কে সহজে মেনে নেয়নি। শিক্ষা থেকে শুরু করে পারিবারিক ও পেশাগত জীবন—প্রতিটি স্তরেই তাঁকে শিকার হতে হয়েছে তীব্র সামাজিক অবমাননা ও কটাক্ষের।

২০১৮ সালে সফলতার সাথে এমবিবিএস (MBBS) পাশ করার পরেও তাঁর জন্য কর্মজীবনের পথ একেবারেই মখমলময় ছিল না। কেবল রূপান্তরকামী পরিচয়ের অপরাধে হায়দরাবাদের অন্তত ১৫টি বেসরকারি হাসপাতাল তাঁকে সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছিল।

আইনি লড়াই থেকে ইতিহাস গড়া: সাফল্যের রূপরেখা

কোনো বাধাই ডা. রুথকে দমাতে পারেনি। অদম্য লড়াই চালিয়ে একের পর এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি:

  • ২০২২: ডা. রুথ এবং তাঁর সহকর্মী ডা. প্রাচী রাঠোর ওসমানিয়া জেনারেল হাসপাতালে (OGH) মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দিয়ে তেলেঙ্গানার প্রথম রূপান্তরকামী সরকারি চিকিৎসক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

  • আইনি জয়: NEET-PG পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাস্তবায়নের দাবিতে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে লড়াই চালান তিনি। হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়ের পরই স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ পান।

  • ২০২৩-২০২৬: ২০২৩ সালের আগস্টে হায়দরাবাদের ইএসআইসি (ESIC) মেডিকেল কলেজে ‘ইমার্জেন্সি মেডিসিন’-এ এমডি পড়াশোনা শুরু করেন এবং ২০২৬ সালে সাফল্যের সাথে এমডি ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেন।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সমতার স্বপ্ন

বর্তমানে ইএসআই হাসপাতালে ‘সিনিয়র রেসিডেন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব সামলানো ডা. রুথ মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য একটি সমতাপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। নিজের সমস্ত অপমান ও বঞ্চনাকে পাশে সরিয়ে রেখে আজ তিনি দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার অপর নাম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *