“ভাইকে খুন করা হয়েছে!”-হাসিনার বিমানে ওঠা নিয়ে সেই ভাইরাল ভিডিও-ই কি কাল হলো তাহসিফের?

শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ছাড়ার সেই বহুল আলোচিত গোপন দৃশ্য কি তবে কারও জীবনের কাল হয়ে দাঁড়াল? তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে যাঁর নাম জড়িয়েছিল, ঢাকার তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার হলো সেই প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিকের নিথর দেহ!

মৃত যুবকের নাম কেএম তাহসিফ সৌরি (২৮)। একদিন নিখোঁজ থাকার পর বুধবার সাড়ে ৪টে নাগাদ ঢাকার উত্তরখান এলাকার রাজাবাড়ি ঘাটের কাছে তুরাগ নদী থেকে টঙ্গি নদী পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। পেশায় প্রাক্তন এই বায়ুসেনা আধিকারিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে এখন পুরো বাংলাদেশে চাঞ্চল্য ও তুমুল রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে। পরিবারের স্পষ্ট দাবি— তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে!

পকেটের আইফোনে মিলল পরিচয়, উত্তেজনার আবহে ময়না-তদন্ত

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধারের সময় তাহসিফ সৌরির পরনে ছিল সাদা প্যান্ট ও কালো শার্ট। প্রথমে দেহটি শনাক্ত করা না গেলেও পকেটে থাকা একটি দামি আইফোন এবং হাতের ঘড়ির সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। এরপর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন সৌরি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান জলে ডুবে মৃত্যু হলেও, মৃত্যুর আসল কারণ জানতে ময়না-তদন্তের রিপোর্টের দিকেই চেয়ে রয়েছে পুলিশ।

“শেখ হাসিনার ভিডিওর জন্যই মানসিক অত্যাচার ও খুন!”— বোন মোশফেকার তোপ

সৌরির মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার রাত ৩টে নাগাদ ফেসবুকে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন তাঁর খুড়তুতো বোন মোশফেকা জাহান। তিনি অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার ভিডিও শেয়ার করার অপরাধে ভাইকে দিনের পর দিন মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ভাই নিজে ভিডিও রেকর্ড করেনি, অন্য সহকর্মীর ভিডিও শুধু শেয়ার করেছিল। এমনকি বায়ুসেনা থেকে অবসর নেওয়ার পরেও ওঁর ওপর প্রতি মুহূর্তে নজরদারি চালানো হতো।”

৫ অগাস্টের সেই রহস্যময় ‘AJAX1431’ এবং তাহসিফ

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট উত্তাল বাংলাদেশে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ বায়ুসেনার ‘C-130J হারকিউলিস’ বিমানে (যার কলসাইন ছিল AJAX1431) ভারতের গাজিয়াবাদে নামেন তিনি।

সেই সময় রানওয়ে থেকে হাসিনার সামরিক বিমানে ওঠার ভিডিও হু-হু করে ভাইরাল হয়ে যায়। তদন্তে ও সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে উঠে এসেছিল তাহসিফ সৌরির নাম। যদিও পরিবারের দাবি, তিনি ভিডিওটির স্রষ্টা ছিলেন না, কেবল সাধারণ নাগরিক হিসেবে শেয়ার করেছিলেন।

বায়ুসেনা ছাড়ার পেছনেও কি ছিল চাপ?

২০২৫ সালের ৪ অগাস্ট বাংলাদেশের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (ISPR) এক বিবৃতিতে জানায়, নিয়ম মেনেই অবসর নেন সৌরি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু সৌরির পরিবারের দাবি এবং সোশ্যাল মিডিয়া জল্পনা বলছে ভিন্ন কথা—ওই বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই মানসিক হেনস্থার শিকার হয়েই বাধ্য হয়ে অবসর নিতে হয়েছিল এই তরুণ আধিকারিককে।

নিছক দুর্ঘটনা, অবসাদ থেকে আত্মহত্যা, নাকি এক বিরাট রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও খুন? কেএম তাহসিফ সৌরির এই অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যু এখন একাধিক প্রশ্ন রেখে গেল ওপার বাংলার রাজনীতিতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *