“আরও মিষ্টি খাব!” নিরাপত্তারক্ষী তুলে নিতেই বিস্ফোরক কাজল শেখ, ২৬-এর পর ফের রাজনৈতিক ডিগবাজি?

বিধানসভার লবিতে সৌজন্যের খাতিরে এক টুকরো বিজয়ার মিষ্টি খেয়েছিলেন। কিন্তু কে জানত, সেই মিষ্টির মাশুল এভাবে হাতেনাতে গুণতে হবে! তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে মিষ্টি খাওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাঁসনের বিধায়ক কাজল শেখের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করে নিল নবান্ন। আর এই ঘটনার পরপরই কাজল শেখের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি করেছে—তবে কি এবার ঋতব্রত শিবির ছেড়ে ফের কালীঘাট শিবিরের দিকেই ঝুঁকছেন তিনি?
“সৌজন্য অপরাধ নয়, দরকার পড়লে আরও মিষ্টি খাব!”
বৃহস্পতিবার নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নেওয়ার খবর সামনে আসতেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন কাজল শেখ। কিছুটা চ্যালেঞ্জের সুরেই তিনি বলেন, “বিজয়ার মিষ্টি খেয়েছি বলেই ২ জন সিকিউরিটিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে নিরাপত্তা সরিয়ে নিলে আমি আরও মিষ্টি খাব! বিজয়ার মিষ্টি খাওয়া একটা সাধারণ সৌজন্যবোধ, এটা কোনো অপরাধ হতে পারে না।” পাশাপাশি, তাঁর শিবিরের চিফ হুইপ আখরুজ্জামানকে দ্রুত নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে কি শোভনদেবের সাথে এই সাক্ষাতই মমতাপন্থী শিবিরে তাঁর ফেরার প্রথম পদক্ষেপ? এই প্রশ্নের উত্তরে জল্পনা আরও বাড়িয়ে কাজল শেখ বলেন, “মমতাই আমার নেত্রী। আমি সর্বদা ওঁর দিকেই ছিলাম এবং আছি।”
ক্ষমতার লড়াই ও নিরাপত্তার গ্রাফ:
বীরভূমের রাজনীতিতে কাজল শেখ বরাবরই অনুব্রত মণ্ডলের বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। গরুপাচার মামলায় অনুব্রত গ্রেফতার হওয়ার পর জেলায় কাজলের প্রভাব এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি হন তিনি। সে সময় তাঁর সুরক্ষায় আগে-পিছে পাইলট-এস্কর্ট গাড়ি সহ ‘ওয়াই’ (Y) ক্যাটেগরির নিরাপত্তা (১৫ জন পুলিশকর্মী) মোতায়েন করা হয়েছিল।
কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকে কাজলের রাজনৈতিক জীবনে একাধিক রাজনৈতিক ওঠানামা দেখা যায়:
-
নিরাপত্তা ছাঁটাই: পালাবদলের পর তাঁর ‘ওয়াই’ ক্যাটেগরি কমিয়ে মাত্র ৪ জন নিরাপত্তারক্ষী করা হয়।
-
অনাস্থা ও ইস্তফা: গত ৪ আগস্ট জেলা পরিষদের ১৯ জন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। বৈঠক হওয়ার আগেই ২০ আগস্ট সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন কাজল। সঙ্গে সঙ্গে তুলে নেওয়া হয় সমস্ত নিরাপত্তাও।
-
নতুন শিবিরে যোগ: পরবর্তীকালে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার পর ফের ২ জন দেহরক্ষী পান তিনি।
ঘরওয়াপসির জল্পনা তুঙ্গে:
গত ২৮ অক্টোবর বিধানসভায় মমতাপন্থী শীর্ষ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টি খেতে দেখা যায় কাজলকে। আর তার ঠিক পরদিনই নিরাপত্তা তুলে নেওয়ায় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীকরণের ফল।
এখন বড় প্রশ্ন—অনুব্রত-পরবর্তী বীরভূমের রাজনীতিতে কাজল শেখ কি তবে নিজের পুরনো অবস্থান চুরমার করে সম্পূর্ণভাবে কালীঘাট শিবিরের দিকেই পা বাড়ালেন? উত্তর মিলবে আগামী দিনেই।