“মা রান্নাঘরে, বাবা বাথরুমে!”-চোখের নিমেষে নিখোঁজ হওয়া দেড় বছরের শিশুপুত্রের পরিণতি কী হলো?

এক মুহূর্তের অসাবধানতা আর চোখের পলক ফেলতেই বড়সড় বিপর্যয়! মা রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন রান্নার কাজে, আর বাবা ছিলেন বাথরুমে। এই সামান্য ফাঁকটাই কাল হলো পরিবারের কাছে। উঠোনে খেলতে খেলতে বাড়ির পাশের একটি বড় জলাশয়ে পড়ে গিয়ে করুণ মৃত্যু হলো বছর দেড়েকের এক শিশুপুত্রের। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির পাণ্ডুয়ার শিখিরা-চাঁপ্তা গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবরাই গ্রামে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির পাশের সেই পুকুর থেকেই শিশুটির দেহ উদ্ধার করা হয়। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

🌊 উঠোনে নেই সোনা! খোঁজাখুঁজি শুরু হতেই পুকুরে ভাসল দেহ

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবরাই গ্রামের বাসিন্দা ভৈরব মুর্মুর দেড় বছরের শিশুপুত্র বাড়ির উঠোনে খেলছিল। পরিবারের দাবি, সেই সময়ে শিশুটির মা রান্নাঘরে এবং বাবা বাথরুমে ছিলেন। হঠাৎই উঠোনে সন্তানকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন বাবা-মা। প্রতিবেশীরাও যোগ দেন তল্লাশিতে।

কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরই বাড়ির উল্টো দিকে থাকা বড় পুকুরের জলে শিশুটিকে ভাসতে দেখতে পান স্থানীয়রা। দ্রুত তাঁকে জল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

🩺 তদন্তে পুলিশ, ময়নাতদন্তের অপেক্ষা

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ। শিশুটির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটি জলাশয়ের ধারে চলে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয় পরিবারের কাছে।

এপ্রসঙ্গে প্রতিবেশী রামজিত মুর্মু বলেন, “খেলতে খেলতে কোনো ভাবে ও জলাশয়ের ধারে চলে গিয়ে জলে পড়ে যায়। বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি করে পুকুরে ভাসতে দেখে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *