“দরজা-জানলা খুলতে পারি না ম্যাডাম, গাঁজা খায়!” মহিলার অভিযোগ শুনেই আইসি-কে চরম হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

শহরকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে লাগাতার ময়দানে নেমে কাজ করছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। প্রতিদিন নিজ উদ্যোগেই এলাকার গলিঘুঁজি ঘুরে দেখে মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনছেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর এই সক্রিয় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসাও করতে দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। এবার কলকাতার কাশীপুর এলাকায় আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ ও সমস্যার কথা শুনলেন এবং তৎক্ষণাৎ কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন রাজ্যের এই মন্ত্রী।
“ম্যাডাম দরজা খুলতে পারি না!”— অভিযোগ শুনতেই পুলিশের ওপর ক্ষোভ
বুধবার কলকাতা পুরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী কাশীপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। মন্ত্রীকে সামনে পেয়েই নিজেদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকার এক স্থানীয় মহিলা সরাসরি মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, “ম্যাডাম, আমরা ভয়ে ঘরের দরজা-জানলা পর্যন্ত খুলতে পারি না। সারা দিন-রাত এখানে প্রকাশ্যে নেশা ও গাঁজা খাওয়ার তাণ্ডব চলে…।”
সাধারণ মা-বোনেদের এই গুরুতর অভিযোগ শোনামাত্রই চরম ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী। সঙ্গে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, “আইসি সাহেব কী করছেন? কেন মা-বোনেদের এই ধরনের অভিযোগ করতে হচ্ছে? স্থানীয় মানুষ সাফ বলছেন যে এই গলি এবং পুরো এলাকায় বেআইনি গাঁজার আসর চলছে। আজ রাত থেকে যেন এই এলাকা নিয়ে এমন কোনো অভিযোগ আমার কাছে না আসে!” মদ্যপান ও মাদকের আসর রুখতে পুলিশকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
ফুটপাত ও ডাস্টবিন পরিষ্কারে পুরসভাকে কড়া নির্দেশ
শুধু মাদকের সমস্যাই নয়, পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ফুটপাতের বেহাল দশা, শৌচাগারের অভাব এবং নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়ার মতো একাধিক দৈনন্দিন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। নোংরা ডাস্টবিন থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ নিয়ে এক বাসিন্দার অভিযোগ শোনামাত্রই সংশ্লিষ্ট পুর আধিকারিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
অগ্নিমিত্রা পাল কড়া সুরেই নির্দেশ দিয়ে বলেন, “সুভাষিনী ম্যাডাম, দ্রুত এই জায়গা পরিষ্কার করুন। পুরো এলাকা ও ফুটপাত ঝকঝকে বানিয়ে দিন। ডাস্টবিনগুলো জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন। পরিদর্শনের সময় যেন কোনো ডাস্টবিন আমি নোংরা বা আবর্জনায় ভরা না দেখি।”
পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য দ্রুত ফুটপাত সংস্কার এবং উন্নতমানের পাবলিক টয়লেট তৈরির বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দেন তিনি। সাধারণ মানুষের সমস্যা মেটাতে মন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর এবং তাৎক্ষণিক অ্যাকশনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কাশীপুরের বাসিন্দারা।