পেট্রোল পাম্পে আর লম্বা লাইন নয়? প্রায় অর্ধেক ভারতীয়ের প্রথম পছন্দ এখন ই-স্কুটার! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভারতের রাস্তায় আগামী কয়েক বছরে ঘটে যেতে চলেছে এক বিরাট এবং নীরব বিপ্লব! আপনার পরবর্তী টু-হুইলারটি কী হতে চলেছে? এই প্রশ্নের উত্তরে আজ প্রায় অর্ধেক ভারতীয়ই চোখ বন্ধ করে আস্থা রাখছেন ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল বা ই-স্কুটারের ওপর। সম্প্রতি বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ (BCG)-এর ‘ইলেকট্রিক ইন চার্জ’ (Electric in Charge) শীর্ষক একটি নতুন রিপোর্টে ভারতীয়দের এই বদলাতে থাকা পছন্দের চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে।
গবেষণা ও সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে ভারতে প্রায় ২.২১ কোটি টু-হুইলার বিক্রি হয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে মাত্র ৩০% মানুষ ই-স্কুটার কেনার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবতেন, এখন সেই সংখ্যাটা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে! অন্যদিকে, “ইলেকট্রিক গাড়ি কোনোদিনই নেব না”— এমন মনোভাবাপন্ন মানুষের সংখ্যাও ৩৮% থেকে কমে ২৯%-এ নেমে এসেছে।
দ্রুত গতি ও নজরকাড়া ডিজাইন: বদলে যাওয়া মানসিকতা
একসময় আমজনতার মধ্যে ধারণা ছিল, ইলেকট্রিক স্কুটার মানেই গতি কম, প্লাস্টিকের দুর্বল বডি এবং দেখতেও তেমন আকর্ষণীয় নয়। কিন্তু বর্তমান বাজারে ই-স্কুটারের ছবিটা একেবারেই ভিন্ন!
গতির ঝোড়ো দাপট: নতুন প্রযুক্তির ই-স্কুটারগুলো মাত্র ২.৭ সেকেন্ডে ০ থেকে ৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা স্পিড তুলে সাধারণ পেট্রোল চালিত টু-হুইলারকে টেক্কা দিচ্ছে।
স্টাইল ও ব্র্যান্ডের ওপর ভরসা: ই-স্কুটারের ডিজাইনের প্রতি মানুষের পছন্দ ৩০% থেকে বেড়ে প্রায় ৫৯% হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের বড় বড় নামী অটোমোবাইল কোম্পানিগুলো ই-স্কুটার তৈরিতে নামায় ব্র্যান্ডের ওপর ভরসাও ২৮% থেকে বেড়ে ৪৬%-এ পৌঁছেছে।
পকেটের সাশ্রয়: পেট্রোলের বিপুল খরচ বাঁচানো, কম মেনটেন্যান্স খরচ এবং ডিজিটাল টাচস্ক্রিনের মতো স্মার্ট ফিচারের কারণে ক্রেতারা এখন ই-স্কুটার কিনতে বেজায় আগ্রহী।
নতুন দুই ধরনের ক্রেতার আবির্ভাব
ভারতের অটোমোবাইল ডিলার ফেডারেশন (FADA)-এর তথ্য বলছে, সম্প্রতি টু-হুইলার বাজারে ইলেকট্রিক গাড়ির মার্কেট শেয়ার ৫.৫% থেকে বেড়ে ৯.৯% হয়েছে (শুধুমাত্র স্কুটারের ক্ষেত্রে এটি ২৪.১%)। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১.৮০ লাখ নতুন ক্রেতা ই-ভেহিক্যালের দুনিয়ায় পা রাখছেন। প্রায় ১,৬০০ জন ক্রেতার ওপর সমীক্ষা চালিয়ে BCG দুটি বিশেষ ধরনের নতুন ক্রেতাশ্রেণী খুঁজে পেয়েছে:
১. ‘ট্রিপ ম্যাক্সিমাইজার’ (Trip Maximizers): কুইক-কমার্স এবং ফুড ডেলিভারি বয়রা এই ক্যাটাগরিতে পড়েন। জ্যামের মধ্যে দ্রুত যাতায়াত এবং কম খরচে টেকসই গাড়ির খোঁজে থাকা এই শ্রেণী ই-স্কুটারকে তাঁদের প্রথম পছন্দ বানিয়ে নিয়েছেন।
২. ‘রিল্যায়াবল ইয়েট রিফাইন্ড’ (Reliable yet Refined): ছোট শহরের উদীয়মান জেন-জি (Gen Z) তরুণেরা এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। এঁরা চান এমন গাড়ি, যা খারাপ রাস্তাতেও মসৃণ চলবে, মাইলেজ বেশি দেবে এবং কলেজে নিয়ে যাওয়ার মতো দারুণ স্টাইলিশ হবে।
ইলেকট্রিক ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
ই-স্কুটার নিয়ে মানুষের মধ্যে এই বিপুল আকর্ষণ থাকলেও, এই আগ্রহকে শতভাগ বিক্রিতে রূপান্তর করতে অটোমোবাইল সংস্থাগুলোকে আরও কয়েকটি জায়গায় জোর দিতে হবে। একক চার্জে গাড়ি ঠিক কতটা দূরত্ব (Range) অতিক্রম করবে, মাঝরাস্তায় বিকল হলে দ্রুত সার্ভিসিং মিলবে কি না, এবং কয়েক বছর ব্যবহারের পর পুরনো পেট্রোল গাড়ির মতো ভালো রিসেল ভ্যালু পাওয়া যাবে কি না— ক্রেতাদের এই সাধারণ সংশয়গুলোর সঠিক গ্যারান্টি দিতে পারলেই আগামী দিনে ভারতের সমস্ত রাস্তা কেবল ইলেকট্রিক টু-হুইলারেরই দখলে থাকবে।