১১ মাসের দীর্ঘ বিভীষিকা শেষ! দীপাবলির আগেই ডুয়ার্সে বিরাট অলৌকিক ঘটনা, আনন্দে চোখে জল ২ হাজার পরিবারের

দীর্ঘ ১১ মাসের ভয়াবহ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর আর্থিক অনটনের অবসান ঘটল ডুয়ার্সে। অবশেষে খুলে গেল বানারহাট ব্লকের বিখ্যাত আমবাড়ি চা বাগানের মূল ফটক। বুধবার সকাল হতেই ফের চেনা ছন্দে বাজল সাইরেন, কাজে যোগ দিলেন শত শত চা শ্রমিক। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাগান ফের চালু হওয়ায় শ্রমিক মহল জুড়ে এখন আনন্দের ঢল নেমেছে।

স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক, স্টাফ এবং সাবস্টাফ মিলিয়ে এই বাগানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। বাগান খোলার প্রথম দিনেই উৎসাহের সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছেন প্রায় ৬০০ জন শ্রমিক।

কাজ বন্ধের সেই কালো দিন ও দুর্ভোগের স্মৃতি
উল্লেখ্য, গত বছর ৩ ডিসেম্বর কাজ সংক্রান্ত এক বিবাদের জেরে রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল আমবাড়ি চা বাগান। এরপর থেকেই জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম আর্থিক অনটন ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন শ্রমিকরা। রুটি-রুজির সন্ধানে অনেক শ্রমিককেই বাধ্য হয়ে অন্য চা বাগানে গিয়ে কাজ খুঁজতে হয়েছে। তবে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অক্ষম শ্রমিকদের জন্য সেই পথও ছিল বন্ধ। পরিস্থিতি এতটাই করুণ আকার ধারণ করেছিল যে, পানের জলের মতো ন্যূনতম মৌলিক চাহিদার জন্যও বহু পরিবারকে প্রতিবেশী বাগানের ওপর নির্ভর করতে হতো।

তবে এই চরম সংকটকালে রাজ্য সরকারের ‘ফৌলাই’ (FAWLOI) প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্ত ১৩,৫০০ টাকা, বাগানের দেওয়া ৮.৩৩ শতাংশ বোনাস, এক মাসের বকেয়া বেতন এবং বাৎসরিক ছুটির টাকা শ্রমিক পরিবারগুলিকে কিছুটা হলেও অক্সিজেন যুগিয়েছিল। দুর্গাপুজোর আগে এই আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় পুজোটুকু কোনোমতে কাটাতে পেরেছিলেন অনেকে। কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন শ্রমিকদের একাংশ।

আলোচনাতেই সমাধান, বাগান বন্ধ নয়: দাবি শ্রমিক সংগঠনের
বাগান পুনরায় চালুর এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শ্রমিক থেকে শুরু করে চা বাগান শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তবে একই সঙ্গে তাঁদের স্পষ্ট দাবি, ভবিষ্যতে মালিকপক্ষ বা শ্রমিকদের মধ্যে কোনো বিবাদ তৈরি হলে যেন হুট করে বাগান বন্ধ করে না দেওয়া হয়। যেকোনো সমস্যার সমাধান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমেই খোঁজা উচিত।

শ্রমিকদের বক্তব্য, “চা বাগানই আমাদের একমাত্র সম্পদ ও জীবিকা।” তাই বাগান নিয়মিত চালু রাখার পাশাপাশি সময়মতো বেতন প্রদান এবং পানীয় জলের মতো মৌলিক সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

দীর্ঘ ১১ মাসের যন্ত্রণা কাটিয়ে আমবাড়ি চা বাগানে অবশেষে কাজের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, ফিরে এসেছে হাসিমুখ। তবে উৎসবের মরশুমে পাওয়া এই বিরাট স্বস্তি ও আনন্দ কতখানি দীর্ঘস্থায়ী হয়, এখন সেদিকেই আশার চোখে তাকিয়ে রয়েছেন প্রায় ২ হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *