১৫ দিনে বিক্রি ৭০০ কুইন্টাল! এক মাসেও নষ্ট হয় না যে জিলিপি, তার আসল রহস্যটা কী?

মেলা মানেই হরেক রকমের খাবারের স্টল এবং রকমারি খাবারের সমাহার। কিন্তু ঝাড়গ্রামের বিনপুরের প্রত্যন্ত হাড়দা গ্রামে লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে বসা এক ঐতিহাসিক মেলায় খাবারের দোকান বলতে জিলিপির দোকান মাত্র একটাই! আর সেই একটিমাত্র দোকানেই ১৫ দিনের মধ্যে ৭০০ থেকে ৮০০ কুইন্টাল জিলিপি বিক্রি হয়ে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছে। জিলিপির টানে জঙ্গলমহল তো বটেই, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকেও ছুটে আসেন মিষ্টিপ্রেমীরা। সম্প্রতি এই বিপুল পরিমাণ মিষ্টির মান খতিয়ে দেখতে মেলায় হানা দিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ ‘হাড়দার জিলিপি’
এত বিপুল পরিমাণ মিষ্টি তৈরি হওয়ায় এর গুণগত মান ও স্বাস্থ্যসম্মত দিকটি নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, তার জন্য মেলা প্রাঙ্গণে আচমকা হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। জিলিপিতে ব্যবহৃত ভোজ্য তেল থেকে শুরু করে সমস্ত উপকরণ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। স্বস্তির বিষয় হলো, পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টি। তবে জনস্বাস্থ্য ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কারিগরদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে কিছু কড়া নির্দেশও দিয়ে গিয়েছেন আধিকারিকরা।
এক মাস পরেও নষ্ট হয় না এই জিলিপি!
সাধারণ জিলিপি এনে পরের দিন খেলেই নরম বা প্যাচপ্যাচে হয়ে যায়। কিন্তু হাড়দার জিলিপির বিশেষত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। বিশেষ অনুপাতে বিউলি ডাল ও আতপ চালের গুঁড়োর মিশ্রণে তৈরি হয় এই মুচমুচে ও খাস্তা জিলিপি। বিশেষ এই রেসিপির কারণে বাড়িতে সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে দিলেও প্রায় এক মাস পর্যন্ত এর মচমচে ভাব ও স্বাদ সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
৩ লক্ষ ৯১ হাজার টাকার নিলাম ও সাশ্রয়ী দাম
গোটা মেলায় জিলিপির দোকান একটাই থাকবে— এই শর্তটি অত্যন্ত পুরনো। সাহা ও মণ্ডল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রীতিমতো নিলাম ডেকে এই দোকান বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়। এবার সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা দর হাঁকিয়ে সেই স্বত্ব জিতে নিয়েছেন সিন্টু সাহা।
তবে লাখ টাকারও বেশি নিলামে দোকান বরাদ্দ হলেও বিক্রেতা ইচ্ছেমতো বেশি দাম নিতে পারেন না। স্থানীয় কমিটিই জিলিপির দাম নির্ধারণ করে দেয়। বর্তমান বাজারে সাধারণ জিলিপির দাম যেখানে কেজিতে ১৪০ টাকার কাছাকাছি, সেখানে হাড়দার মেলায় এই জিলিপি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১১০ টাকা কেজিতে। অপূর্ব স্বাদ, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং পকেট-ফ্রেন্ডলি দাম—সব মিলিয়েই ঝাড়গ্রাম ছাড়িয়ে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ ভিনরাজ্যের মানুষের কাছেও প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এখন এই ‘জিলিপির মেলা’।