১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ফুঁড়ে কানপুর থেকে গ্রেপ্তার! শিল্পপতির বাড়িতে চাঞ্চল্যকর চুরির মাস্টারমাইন্ড আসলে কে?

বিশ্বাস করে যাকে ঘরে রেখেছিলেন, সেই গৃহকর্মীই যে এমন সর্বনাশা কাণ্ড ঘটাবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি উত্তর প্রদেশের মিরাটের প্রখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি আশুতোষ ভাল্লা। চায়ে কৌশলে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে মালকিনকে অজ্ঞান করে কোটি কোটি টাকার নগদ অর্থ ও মূল্যবান গয়না নিয়ে চম্পট দিল তাদেরই বাড়ির পরিচারিকা। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের নিখুঁত তদন্ত ও ১০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ট্র্যাক করে কানপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত গৃহকর্মী ও তার প্রেমিককে।

কীভাবে ঘটেছিল এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিরাটের ডিফেন্স কলোনির বাসিন্দা শিল্পপতি আশুতোষ ভাল্লার বিশাল অট্টালিকায় কাজের জন্য ৮ জন ভৃত্য ও নিরাপত্তাকর্মী নিযুক্ত রয়েছেন। এত নিরাপত্তার বেড়াজাল ভেদ করে গত সোমবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনাটি ঘটে।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ওই গৃহকর্মীর নাম রোশনি। সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আশুতোষবাবুর মায়ের চায়ের সাথে ঘুমের ওষুধ বা শক্তিশালী নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। চা পানের কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি গভীর ঘুমে বা অচৈতন্য হয়ে পড়েন। এই সুযোগে বাড়ির সিন্দুক ভেঙে সমস্ত নগদ টাকা এবং গয়না হাতিয়ে নেয় রোশনি।

পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জালিয়াতি ও কানপুর পলায়ন

চুরি করার পর পুলিশকে ধোঁয়াশায় রাখতে নিখুঁত ছক কষেছিল রোশনি। সে বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে একটি অটো ধরে সোজা বেগমপুল এলাকায় পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এড়াতে সে ট্রেন বা আকাশপথের বদলে একটি দূরপাল্লার বাসে চড়ে সোজা গিয়ে হাজির হয় কানপুরে, তার প্রেমিকের ঠিকানায়।

১০০টি সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের মাস্টারস্ট্রোক

খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় মিরাট পুলিশের বিশেষ দল। বাড়িতে থাকা সমস্ত কর্মী ও রাঁধুনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। রাঁধুনি পুলিশকে জানান যে রোশনিই ওইদিন চা বানিয়ে সকলকে দিয়েছিল।

এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শহরের প্রায় ১০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তন্ন তন্ন করে খতিয়ে দেখে রোশনির পালানোর রুট ট্র্যাক করা হয়। সেই সূত্র ধরে কানপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ রোশনি ও তার প্রেমিককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।

উদ্ধার অভিযান জারি

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের জেরা করা হলেও তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ টাকা বা গয়না উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের জোরালো ধারণা, ওই চোরেরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে সমস্ত চোরাই মাল গোপন কোনো স্থানে লুকিয়ে রেখেছে। বর্তমানে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তাদের বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় শিল্পপতির পরিবার তথা পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *