“ফলাফল তৈরি, তাও শংসাপত্র আটকানো হচ্ছে!” বারাণসী নির্বাচন নিয়ে বিজেপিকে চাঁচাছোলা আক্রমণ সমাজবাদী পার্টি প্রধানের

উত্তর প্রদেশের বিধান পরিষদ (এমএলসি) নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্যের রাজনীতি। বারাণসী কেন্দ্রে ভোট গণনার ধীরগতি এবং ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব। শাসকদল বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে তিনি তোপ দেগেছেন, “বিজেপি যদি সৎভাবে জিততে না জানে, তবে তাদের অন্তত সৎভাবে হারতে শেখা উচিত।”
বারাণসীতে ফলাফল পাল্টানোর চক্রান্তের অভিযোগ
উত্তর প্রদেশের শিক্ষক ও স্নাতক নির্বাচনী এলাকার ভোট গণনা চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ একের পর এক বিস্ফোরক পোস্ট করেন এসপি প্রধান। অখিলেশ যাদব অভিযোগ তোলেন, বারাণসীতে বিজেপি পরাজয়ের ভয়ে ভোট গণনা ধীরগতিতে চালাচ্ছে এবং ফলাফল আটকে দেওয়ার পুরোনো কৌশল ব্যবহার করছে।
তিনি লেখেন, “বারাণসীতে ভোট গণনা বন্ধ বা ধীরগতির পেছনে কী ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই বোঝে। কিন্তু এই চক্রান্তে বিজেপি কোনোভাবেই সফল হবে না। বারাণসীতে বিজেপির এই বড় পরাজয় যাতে জাতীয় সংবাদে পরিণত হয়, তা আটকানোর জন্যই যাবতীয় কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। যা তথ্য মিলছে, তাতে ফলাফল প্রস্তুত হয়ে গেছে কিন্তু জয়ী প্রার্থীকে সনদপত্র দেওয়া হচ্ছে না।”
নির্বাচন কমিশনকে আলটিমেটাম
গণনা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অখিলেশ সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তোপ দাগেন। তিনি সাফ জানান, কমিশনকে তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে, অথবা এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষতা প্রমাণের এটিই শেষ সুযোগ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনী লড়াইয়ের বর্তমান চিত্র
রাজ্যের ১১টি শিক্ষক ও স্নাতক নির্বাচনী এলাকার আসনগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টি আসনের ফলাফল সামনে এসেছে। যার মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ৬টি এবং সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ৩টি আসনে জয়লাভ করেছে।
মর্যাদাপূর্ণ বারাণসী ব্লক শিক্ষক নির্বাচনী এলাকায় এসপির লাল বিহারী যাদব বড়সড় ব্যবধানে জয় হাসিল করেছেন। অন্যদিকে, বারাণসী স্নাতক কেন্দ্রেও এসপির প্রার্থী ডঃ আশুতোষ ভার্মা বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। তবে এই কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে ভোট গণনা চললেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে।