TMC-র একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে কি টিকিট দেবে BJP? জল্পনা তুঙ্গে, ড্রপবক্সে জমা বায়োডাটা!

রাজ্যে পুরসভার ভোট ঘোষণা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। শাসক থেকে বিরোধী—সব দলই কোমড় বেঁধে নেমে পড়েছে প্রার্থী নির্বাচনের কাটাছেঁড়ায়। তবে এর মধ্যেই তিলোত্তমা কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে এক নতুন জোর জল্পনা। সূত্রের খবর, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন অন্তত ২২ জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর এখন বিজেপির টিকিটে লড়ার দৌড়ে রয়েছেন! বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে তৃণমূলী কর্মীদের টিকিট না দেওয়ার কথা বললেও, কলকাতার ১৬ নম্বর গেটের কাছে বায়োডাটার পাহাড় জমে যাওয়ায় জল্পনা এখন তুঙ্গে।
কলকাতার ২০৯ ওয়ার্ডে ৩ হাজার বায়োডাটা! টিকিটের চাহিদা আকাশছোঁয়া
প্রার্থী বাছাইয়ের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিজেপি ড্রপবক্সের মাধ্যমে আবেদনপত্র ও বায়োডাটা জমা নেওয়া শুরু করেছিল।
-
আবেদনের পাহাড়: জানা গেছে, কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডের জন্য প্রায় ৩,০০০ বায়োডাটা জমা পড়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য গড়ে ১০ থেকে ১২ জন প্রার্থী লড়াইয়ে রয়েছেন।
-
বিজেপির অবস্থান: বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তৃণমূলের কাউকে টিকিট দেওয়া হবে না। পুরভোটের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্য নির্বাচনী কমিটির সদস্য রীতেশ তিওয়ারিও স্পষ্ট করেছেন, “দলের পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদেরই ১০০ শতাংশ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
অভিজ্ঞতার অভাব নাকি প্রাক্তন তৃণমূলীদের সুযোগ? লাখ টাকার প্রশ্ন!
বিজেপি শিবিরের এই কঠোর বার্তার পরও কলকাতার বাস্তবতায় বড় প্রশ্ন উঠে আসছে। মহানগরে জল, আলো, রাস্তা ও নিকাশির মতো নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধির সংখ্যা পদ্ম শিবিরে অত্যন্ত সীমিত।
বর্তমানে বিজেপির হাতে সজল ঘোষ, মীনাদেবী পুরোহিত, বিজয় ওঝা এবং কংগ্রেস থেকে আসা সন্তোষ পাঠকের মতো হাতে গোনা ক’জন অভিজ্ঞ মুখ রয়েছেন। ফলে বাকি ২০৫টি ওয়ার্ডে ডে-টু-ডে নাগরিক পরিষেবা পরিচালনা করার মতো অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় প্রার্থীর তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
জল্পনায় থাকা ২২ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর কারা?
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, দাগহীন ভাবমূর্তি এবং পুরপরিষেবার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা ২২ জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের নাম এখন বিজেপির অলিন্দে ঘোরাফেরা করছে:
-
উত্তর কলকাতা: ৭ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর।
-
দক্ষিণ কলকাতা: ১২ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর।
-
টালিগঞ্জ: ৩ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ২২ জনের মধ্যে রয়েছেন অন্তত ৪ জন প্রাক্তন মেয়র পারিষদ এবং ৩ জন বোরো চেয়ারম্যান। এমনকি শাসকদলের বিক্ষুব্ধ অংশ হিসেবে চিহ্নিত ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল’-এর তরফ থেকেও একাধিক কাউন্সিলর ও হেভিওয়েট নেতার স্বজনরা বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে খবর।
মমতা ও গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নজরও টিকিটে
এদিকে, এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ মালা রায়, সায়নী ঘোষ এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মারফতে প্রায় ৪৪ জন প্রার্থীর নাম নবান্নে জমা পড়েছে বলেও রাজনৈতিক সূত্রে খবর। ফলে একদিকে তৃণমূলের অন্দরে টিকিট পাওয়ার লড়াই, অন্যদিকে বিজেপি, গণতান্ত্রিক তৃণমূল এবং বিজেপির টিকিটে লড়তে চাওয়া প্রাক্তন কাউন্সিলরদের যোগসূত্রে পুরভোটের আগে তিলোত্তমার রাজনীতি এখন আক্ষরিক অর্থেই জমজমাট।
উপসংহার:
বিজেপি কি তাদের পুরনো কর্মীদের আবেগ বজায় রেখে একা লড়াই করবে, নাকি পুরসভায় জেতার জন্য অভিজ্ঞ প্রাক্তন তৃণমূলীদের হাতেই তুলে দেবে পদ্ম প্রতীক—এখন সেই সিদ্ধান্তেরই অপেক্ষায় রাজ্য রাজনীতি।