‘এই বয়সে আর না দাঁড়ানোই ভালো, এখন বিশ্রামের সময়!’ মমতাকে সরাসরি পরামর্শ শুভেন্দুর

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করার পর বুধবার বিধানসভায় এক ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন দুই নতুন বিজেপি বিধায়ক—রেজিনগরের শাখারভ সরকার এবং নন্দীগ্রামের হাসিরানি রথ। বিধানসভার স্পিকারের উপস্থিতিতে এদিন তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে একের পর এক বোমা ফাটান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি শাসক শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।

বয়সের কথা মনে করিয়ে মমতাকে বার্তা
এদিনের বক্তব্যে নন্দীগ্রামের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষ অভিমান করে আমাকে বলেছিল ভবানীপুর কেন্দ্র ছেড়ে দিতে। আমি তাঁদের জানিয়েছি, যিনি অতীতে আমার কাছে দু’বার পরাজিত হয়েছেন, তিনি ফের দাঁড়ানোর সুযোগ পেতেন। তবে এই বয়সে আর না দাঁড়ানোই ভালো। ওঁর বয়স প্রায় ৭৫ ছুঁইছুঁই, এখন তো বিশ্রাম নেওয়ার সময়।”

‘এ তো সবে চা-বিস্কুট, লাঞ্চ এখনও বাকি!’
উপনির্বাচনের ফলাফলকে সুশাসন ও মানুষের আস্থার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “ফলতায় দেবাংশু পাণ্ডা ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জিতেছেন। আর নন্দীগ্রামে অন্য প্রার্থীরা মাঠ থেকেই আউট হয়ে গেছেন।” বর্তমান সরকারের আমলে নির্বাচনের স্বচ্ছতার কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, অতীতে ভোটের সময় সংবাদমাধ্যমে যে ধরনের সন্ত্রাসের ছবি দেখা যেত, এবার তার ছিটেফোঁটাও ছিল না।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপিকে ‘সাম্প্রদায়িক দল’ হিসেবে দাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অভিযোগ খণ্ডন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, আমরা হিন্দু। আমরা মাথায় তিলক কাটি, সনাতনে বিশ্বাস রাখি। কিন্তু সরকার চালাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যেটির যখন প্রয়োজন, আমরা ঠিক সেটিকে গুরুত্ব দিই। এমনকি সংখ্যালঘু বুথেও জয়ী হয়েছেন শাখারভ সরকার।” এরপরই বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “গত ছয় মাসে যা দেখছেন, তা তো কেবল সকালের চা-বিস্কুট। এখনও লাঞ্চ বা আসল ব্রেকফাস্ট বাকি আছে! দেখতে থাকুন, কীভাবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এগিয়ে চলি।”

হাসিরানি রথের ছেলের খুন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
এদিনের বক্তব্যে হাসিরানি রথের ছেলের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই খুনের জন্য ২ কোটি টাকার সুপারি কে বা কারা দিয়েছিল? সেই টাকা কি কালীঘাট নাকি ক্যামাক স্ট্রিট থেকে এসেছিল? এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা ও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সবমিলিয়ে, বিধানসভার অন্দরে দুই বিজেপি বিধায়কের শপথের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝাঁঝালো বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *