‘ভগবান রক্ষা করেছেন…’ ভোটার তালিকায় অদ্ভুত ভুলের জবাব দিয়ে চরম বিপাকে কমিশন! চাপে পড়ে হাঁটু ভেঙে ক্ষমা প্রার্থণা!

ভোটার তালিকায় অদ্ভুত ভুলভাল নাম, আর সেই ভুল ঢাকার বদলে সোশাল মিডিয়ায় চরম ব্যঙ্গাত্মক উত্তর! সরকারি এক্স (X) হ্যান্ডল থেকে করা বিতর্কিত কটাক্ষ ও মন্তব্যে গোটা রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলতেই শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করল নির্বাচন কমিশন। সর্বস্তরের তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পিছু হেঁটে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলো উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দফতর।

কী ঘটেছিল? বিতর্ক ও ক্ষমার পালা
চারদিক থেকে ধেয়ে আসা তীব্র আক্রমণ ও আইনি কাঠগড়ার মুখোমুখি হয়ে মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল হ্যান্ডল থেকে এক বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে স্পষ্ট লেখা হয়, “এই হ্যান্ডল থেকে করা পোস্টের মন্তব্যগুলির সুর এবং ভাষা কোনো সরকারি হ্যান্ডল থেকে প্রত্যাশিত বার্তার সঙ্গে বিন্দুমাত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে যে জনক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়ে কমিশন আরও জানায়, “যাঁরা এই অনভিপ্রেত মন্তব্যে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন, আমরা তাঁদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এখন থেকে আমাদের সমস্ত যোগাযোগ আরও সংযত এবং সরকারি ভাষার মান বজায় রেখে সম্পন্ন হবে।”

ভোটার তালিকায় হাস্যকর ত্রুটি ও রাজনৈতিক তোপ
ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশের সাম্প্রতিক বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা ঘিরে। তালিকায় বেশ কিছু মারাত্মক ও অবমাননাকর ত্রুটি প্রকাশ্যে আসে। দেখা যায়, এক ভোটারের আসল নাম ‘রামহিত যাদব’-এর পরিবর্তে নথিবদ্ধ করা হয়েছে ‘রাম নে যাদব কো মারা’ (রাম যাদবকে মেরেছে)!

এই মারাত্মক ভুল সামনে আসতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার ও কমিশনকে একযোগে তীব্র আক্রমণ করেন আম আদমি পার্টির (AAP) রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং। তিনি এক্স হ্যান্ডলে কমিশনকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লেখেন, “জ্ঞানেশ কুমারজি, রাম কেন শুধু একজন যাদবকেই মারলেন? রাম কেন কোনো সিং, পাঠক, আস্থানা, শর্মা, রাই বা বিস্তকে মারলেন না? আপনাদের কম্পিউটার বা সফটওয়্যারও কি জাতিবাদী? আপনারা কি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন?”

বিতর্ক বাড়িয়ে কমিশনের ব্যঙ্গাত্মক জবাব
সঞ্জয় সিংয়ের এই ঝাঁজালো প্রশ্নের জবাবে সৌজন্য রক্ষা করা তো দূরের কথা, উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) নবদীপ রিনওয়ার অফিসিয়াল হ্যান্ডল থেকে পালটা ব্যঙ্গাত্মক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন জবাব দেওয়া হয়। ভোটার তালিকায় আরও একটি ভুলকে হাতিয়ার করে ব্যঙ্গের সুরে বলা হয়, ভুল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সৌভাগ্যবশত তাতে নাকি কোনো ‘জাতিগত বৈষম্য’ ছিল না! কারণ, রবি শর্মা নামে এক ভোটারের বাবার নাম ভুলবশত লেখা হয়েছে ‘রাম নে শর্মা কো মারা’।

এখানেই ক্ষান্ত হয়নি কমিশন। পরবর্তী পোস্টে আরও চাঞ্চল্যকর কটাক্ষ করে লেখা হয়:

“ভগবানকে ধন্যবাদ যে রাম কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যকে মারেননি, না হলে জাতিবাদী হওয়ার পাশাপাশি আমাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগও উঠত!”

সিইও-র বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি
একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল হ্যান্ডল থেকে এমন খোঁচা মারা ও অসংবেদনশীল মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আগুনে ঘি পড়ে। আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং লখনউতে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে অভিযোগ করেন, উত্তরপ্রদেশের সিইও নিরপেক্ষতা হারিয়ে শাসকদল বিজেপির দালালের মতো আচরণ করছেন।

তিনি ভোটার তালিকার আরও একটি আপত্তিকর ত্রুটি তুলে ধরে দেখান, ‘মহম্মদ ইকবাল বেগ’-এর নাম বদলে সেখানে লেখা হয়েছে ‘মহম্মদ ইকবাল ভীখ মাংতে হ্যায়’ (মহম্মদ ইকবাল ভিক্ষা করে)। সরকারি নথিতে এই ধরনের চূড়ান্ত অবমাননাকর শব্দের ব্যবহারের বিরুদ্ধে এবং সিইও নবদীপ রিনওয়ারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি। রাজনৈতিক তরজা ও প্রশাসনিক কোণঠাসা পরিস্থিতিতে অবশেষে নিজেদের অবস্থান থেকে ১০০ ডিগ্রি ঘুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *