বঙ্গোপসাগরে ভয়াল ‘অর্ণব’! গঙ্গাসাগর ও সুন্দরবনে রেড অ্যালার্ট, উপকূল ছাড়ার জরুরি নির্দেশ!

বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হওয়া গভীর নিম্নচাপ এবার অতি তীব্র সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়ে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বড়সড় দুর্যোগের মেঘ ঘনাচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঘূর্ণিঝড় সরাসরি বাংলার স্থলভাগে আছড়ে না পড়লেও এর পরোক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোতে মুষলধারে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বইতে পারে দমকা ঝোড়ো হাওয়া। সম্ভাব্য এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে সুন্দরবন ও গঙ্গাসাগরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা।
বিশেষ করে সুন্দরবনের সাগর ব্লকের স্পর্শকাতর উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। দুর্যোগের হাত থেকে সাধারণ মানুষ, পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের সুরক্ষিত রাখতে মহকুমা ও ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে এলাকাভিত্তিক জোরদার মাইকিং ও প্রচার অভিযান চালানো হচ্ছে।
সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই মৎস্য দপ্তরের তরফ থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যে সমস্ত মৎস্যজীবীরা ইতিমধ্যেই ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছিলেন, তাঁদের দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা পাওয়ার পরপরই অধিকাংশ মৎস্যজীবী তাঁদের ট্রলার নিয়ে নিরাপদে কূলে ফিরে এসেছেন।
সাগর ও আশপাশের ঘাটগুলিতে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে যাতে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনও ট্রলার বা নৌকা সমুদ্রে না নামতে পারে। কূলে ফিরে আসা মৎস্যজীবী দিব্যেন্দু মাইতি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, “ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতার কারণে মৎস্য দপ্তর থেকে মাছ ধরা বন্ধের নির্দেশ এসেছে। নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘাটে ফিরে এসেছি।” মাছ ধরা বন্ধ থাকায় উপকূলের মৎস্যজীবী পরিবারগুলির জীবিকাতেও বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গঙ্গাসাগর ও কপিলমুনি আশ্রমে জারি বিশেষ নির্দেশিকা
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সাগর ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের নামিয়ে উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকা, পর্যটন কেন্দ্র ও বাজারগুলিতে মাইকিং চালানো হচ্ছে। গঙ্গাসাগরের বিশ্বপ্রসিদ্ধ কপিলমুনি আশ্রম চত্বর এবং সমুদ্র সৈকতে থাকা পুণ্যার্থী, দেশ-বিদেশের পর্যটক ও অস্থায়ী দোকানদারদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
উত্তাল সমুদ্র বা আচমকা আবহাওয়া খারাপ হলে যাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে কারণে সৈকতে পর্যটকদের জলে নামার ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
স্পর্শকাতর নদীবাঁধে কড়া প্রহর পাহারা
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর জেরে ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনার কথা ভেবে সাগর ব্লকের জরাজীর্ণ ও দুর্বল নদীবাঁধগুলিতে বিশেষ প্রহর পাহারা বসাচ্ছে প্রশাসন। বিশেষ করে কশতলা গ্রামসহ একাধিক স্পর্শকাতর নদীবাঁধ এলাকায় প্রশাসনিক আধিকারিকরা প্রতিনিয়ত সরেজমিনে পরিস্থিতি তদারকি করছেন। বাঁধের কোথাও কোনও ধস বা ক্ষতি হচ্ছে কি না, সেদিকে রাখা হচ্ছে বিশেষ তীক্ষ্ণ নজর।
সব মিলিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর মেগা দুর্যোগ মোকাবিলায় সুন্দরবন ও সাগরজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। উপকূলের মানুষ এখন প্রতি মুহূর্তের আবহাওয়া আপডেটের দিকে উদ্বেগের সঙ্গে চোখ রাখছেন।