বাঙালির অতি প্রিয় ‘বাটা মাছ’-এর নাম এমন হলো কেন? মশলা বাটার সঙ্গে কি এর কোনো যোগ আছে?

বাঙালি আর মাছ—এই দুটি শব্দ যেন একে অপরের সমার্থক। মাছ ছাড়া বাঙালি জাস্ট বাঁচতেই পারে না! ভাপানো সর্ষে পাবদা, কড়া ভাজা ভেটকি কিংবা ধোঁয়া ওঠা ভাতের পাতে গরম গরম পাতলা বাটা মাছের ঝোল— মাছের বৈচিত্র্য ও স্বাদে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। তবে রকমারি মাছের এই ভিড়ে কখনো কি ভেবে দেখেছেন, অত্যন্ত পরিচিত এই ‘বাটা মাছ’-এর নাম কেন ‘বাটা’ হলো?
রান্নাঘরের শিল-নোড়ায় মশলা ‘বাটা’র সঙ্গে কি আদতে এই মাছের নামকরণের কোনো সম্পর্ক রয়েছে? নাকি এই নামের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে মাছটির কোনো বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য?
খাবারের থালায় এই মাছ বহুবার এলেও এর নামের পেছনের আসল ইতিহাস অনেকেরই অজানা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বাটা’ নামকরণের মূল কারণ হলো এই মাছের বিশেষ শারীরিক আকৃতি। বাটা মাছ মূলত ছোট বা মাঝারি আকারের রুই জাতীয় (Carps) মাছের গোত্রভুক্ত। এই মাছের পেট বা শরীর অন্যান্য বড় মাছের মতো খুব বেশি গোলগাল বা ভারী হয় না, বরং এটি কিছুটা চ্যাপ্টা বা দুপাশ থেকে চেপে যাওয়া ধরনের হয়। মাছটির শরীর চ্যাপ্টা ও কিছুটা বাটির মতো অবয়ব হওয়ার কারণে লোকমুখে এটি ‘বাটা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। প্রসঙ্গত, প্রাচীন বাংলায় ‘বাটা’ বলতে অনেক সময় ছোট, চ্যাপ্টা বা চেপে যাওয়া কোনো বস্তুকে বোঝানো হতো। আর এই শারীরিক গঠন থেকেই এই প্রজাতির মাছের এমন নামকরণ হয়েছে।
তবে নামকরণের নেপথ্যে আরও একটি জনপ্রিয় মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। এই মাছটির নদী বা জলাশয়ের একদম তলদেশ থেকে খাবার গ্রহণ করার একটি বিশেষ স্বভাব রয়েছে। বাটা মাছ জলের গভীরে গিয়ে কাদা, শ্যাওলা ও পলি ছেঁকে একপ্রকারের খাবার সংগ্রহ করে খায়। তলদেশের এই বিশেষ আহার আচরণের কারণে অতীতে অনেক অঞ্চলে একে ‘পাঁক-বাটা’ বা সংক্ষেপে ‘বাটা’ বলা হতো।
উল্লেখ্য, বাটা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Labeo bata (ল্যাবিও বাটা) এবং এটি মূলত ‘সাইপ্রিনিডি’ (Cyprinidae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। জলের তলা থেকে খাবার খোঁজার অভ্যাস আর চ্যাপ্টা শরীরের এই অদ্ভুত মিশ্রণই আজ এই মাছটিকে বাঙালির হেঁশেলে এক অনন্য পরিচিতি দিয়েছে।