মাথায় সিঁদুর, গায়ে শাড়ি! কুইন সাইজের এই ভাইরাল ভিডিও কি সত্যিই এআই-এর সৃষ্টি নাকি আসল?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজকাল নানা ধরনের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। সম্প্রতি ইন্টারনেটে এমন একটি ভিডিও দারুণ শোরগোল ফেলে দিয়েছে, যেখানে এক নববধূপ্রায় তরুণীকে লাল শাড়ি, হাতে শাখা-পলা বা চূড়া এবং সিঁথিতে সিঁদুর পরে একেবারে চালকের আসনে বসে ট্রেন চালাতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে ট্রেন ড্রাইভ করছেন এবং ওয়াকিটকির মাধ্যমে গার্ডের সঙ্গে কথা বলছেন।
এই ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অনেকেই এই তরুণীর কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। কেউ কেউ এটিকে ‘ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ ভিডিওটি লাইক ও শেয়ার করেছেন। তবে এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্নও জেগেছে— এই ভিডিওটি কি আদতে সত্যি, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো কারসাজি?
রেলওয়ের নিয়ম ও ভিডিওর সত্যতা
ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে গেলে রেলওয়ের সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মের কথা সামনে আসে। ভারতীয় রেলের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো লোকো পাইলট বা চালককে ডিউটির সময় বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত অফিশিয়াল ইউনিফর্ম বা পোশাক পরতে হয়। ফলে বিয়ের সাজে অর্থাৎ শাড়ি এবং ভারী অলংকার পরে ট্রেন চালানো রেলের নিরাপত্তা বিধিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাছাড়া রেল বিভাগ থেকেও এ ধরনের কোনো ঘটনার কোনো রকম আনুষ্ঠানিক সত্যতা স্বীকার করা হয়নি।
এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজি?
ভিডিওটির সত্যতা খুঁজতে যখন প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করা হয়, তখন ‘Hive AI Detection’ টুলের মাধ্যমে এর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ভিডিওটি ২৬ শতাংশের কাছাকাছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা উন্নত এডিটিং টুলের সাহায্যে তৈরি বা রূপান্তরিত করা হয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সব মিলিয়ে বিচার করলে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটি আদতে পুরোপুরি খাঁটি নয়। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং রেলের নিয়মকানুন বলছে, এটি এআই বা কোনো উন্নত সম্পাদনা কৌশলের মাধ্যমে তৈরি একটি জল্পনামূলক দৃশ্য মাত্র।