পোষ্যদের জন্য তৈরি হচ্ছে শ্মশান ও সমাধিক্ষেত্র! বিরাট ঘোষণা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের

পোষ্য কুকুর এবং অন্যান্য গৃহপালিত পশুদের মৃত্যুর পর তাদের সঠিক ও মর্যাদাপূর্ণ শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করতে রাজ্যজুড়ে এক ঐতিহাসিক ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। মানুষের মতোই পোষ্যদের প্রতি পারিবারিক আবেগ ও অনুভূতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ শ্মশান ও সমাধিক্ষেত্র গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের প্রাথমিক রূপরেখা হিসেবে ইতিমধ্যেই পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের ডামরায় একটি উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু আসানসোলই নয়, রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই এই জাতীয় জমি চিহ্নিতকরণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। পুরো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করতে বিশদ প্রকল্প প্রতিবেদন বা ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (DPR) তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আমাদের পরিবারে পোষ্যরা সন্তানসম এবং পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মৃত্যুর পর ধাপার মাঠ বা সাধারণ ফাঁকা জায়গায় ফেলে দেওয়া হলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয় এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মন ভেঙে পড়ে। তাই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবেশ সচেতনতার কথা মাথায় রেখে ডামরায় চিহ্নিত জমিতে দ্রুত কাজ শুরু হতে চলেছে। আসানসোলের মডেল সফল হলে এটি গোটা পশ্চিমবঙ্গেই ধাপে ধাপে ছড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে প্রতিটি গৃহপালিত পশু মৃত্যুর পর সঠিক শেষকৃত্যের মর্যাদা পায়।”
পোষ্যদের শেষকৃত্যের পাশাপাশি পথসারমেয় এবং অন্যান্য প্রাণীদের সুরক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে একগুচ্ছ মানবিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পথকুকুরদের খাবার দেওয়া নিয়ে প্রায়শই সাধারণ বাসিন্দাদের সঙ্গে পশুপ্রেমীদের চরম বিবাদ বাঁধে। এই জটিল সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরভিত্তিক ডগ-ফিডারদের (Dog-feeders) তালিকা তৈরি করে তাঁদের বিশেষ সরকারি পরিচয়পত্র (Identity Cards) দেওয়া হবে। এই অনুমোদিত তালিকাটি স্থানীয় থানার পুলিশের কাছেও জমা থাকবে, যাতে পশুপ্রেমীরা কোনো বাধা বা হেনস্থার মুখোমুখি না হন।
একই সাথে পথকুকুরদের খাওয়ার জন্য জনবহুল এলাকা থেকে দূরে সুনির্দিষ্ট ও সুপরিচ্ছন্ন স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। সেখানে স্টিলের বাটি, উঁচু প্ল্যাটফর্ম, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় পরিকাঠামো বজায় রাখা হবে। খাবারের ব্যবস্থা করা ব্যক্তির দায়িত্ব থাকবে স্থানটি সর্বদা ধুয়ে-মুছে পরিচ্ছন্ন রাখা। পথপশুদের পাশাপাশি পাখিদের জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি গাছগুলিতে মাটির পাত্রে দানা ও জল রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে পাখি অনুযায়ী উপযুক্ত শস্যদানা দেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বন্যপ্রাণ সুরক্ষার আবহে রাজ্যের এই সমন্বিত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে অভিজ্ঞ মহল।