পাওয়ার ব্যাঙ্কের জেরে বড় বিপত্তি! মুম্বই-হাওড়া মেলে আচমকা আগুন, স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বাজতেই তীব্র আতঙ্ক

চলন্ত ট্রেনে নিঝুম রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাতানুকূল (AC) কামরা গাঢ় কালো ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপক অ্যালার্ম বেজে উঠতেই চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ঘুমন্ত যাত্রীদের মধ্যে। জীবন বাঁচাতে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করে দেন অনেকেই। শনিবার ভোরে ওড়িশার বন্ধমুণ্ডা স্টেশনের কাছে ১২৮০৯ ডাউন মুম্বই-হাওড়া মেল ট্রেনে এই ভয়াবহ বিপত্তি ঘটে। মূলত চলন্ত ট্রেনে চার্জে বসানো একটি পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হওয়ার ফলেই এই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে রেলের নিরাপত্তা কর্মী ও আধুনিক অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার তৎপরতায় অল্পের জন্য বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রেল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোররাত ৩টা ৩৮ মিনিট নাগাদ ট্রেনটি যখন চক্রধরপুর ডিভিশনের অন্তর্গত বন্ধমুণ্ডা ইলেকট্রিক শেডের কাছাকাছি ডাউন লাইন দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ই এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ১৪ নম্বর কামরা, অর্থাৎ B-3 এসি থার্ড টায়ার কোচের ৬ নম্বর বার্থে ছিল এই বিপত্তি। ওই বার্থের এক যাত্রী রাতের বেলা নিজের মোবাইল ফোনের পাওয়ার ব্যাঙ্কটি ট্রেনের চার্জিং সকেটে প্লাগ-ইন করে চার্জে বসিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাতভর বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকা বা যান্ত্রিক কোনো গোলযোগের কারণে অতিরিক্ত গরম হয়ে হঠাৎই পাওয়ার ব্যাঙ্কে বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে কামরা
বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এসি কামরাটি। মুহূর্তের মধ্যে পাওয়ার ব্যাঙ্কে আগুন ধরে যায় এবং সেখান থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া দ্রুত কামড়ার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, বাতানুকূল কামরার আধুনিক স্বয়ংক্রিয় সেন্সর ধোঁয়া শনাক্ত করার সঙ্গে সঙ্গেই সজোরে ‘ফায়ার অ্যালার্ম’ বেজে ওঠে এবং ট্রেনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বন্ধমুণ্ডার কাছে দাঁড়িয়ে পড়ে।
ভোরের অন্ধকারে ট্রেনের ভেতর হঠাৎ এমন ধোঁয়া ও সতর্কঘণ্টা বেজে ওঠায় যাত্রীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে অনেকে ভেবেছিলেন কেউ হয়তো ইমার্জেন্সি চেইন টেনেছেন, কিন্তু পরে রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে নিশ্চিত করে যে চেন টানা হয়নি, বরং ট্রেনের ‘ফায়ার সিকিউরিটি সিস্টেম’ সক্রিয় হওয়ার কারণেই ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের আগে থেমে যায়। রেলের পক্ষ থেকে যাত্রীদের ফের একবার ট্রেনের ভেতর ইলেকট্রনিক গ্যাজেট চার্জে দেওয়ার সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।