“মায়ের কাছে কেউ ভিআইপি নয়!” লক্ষ্মীপুজোর দিনেই নৈহাটির বড়মার মণ্ডপে দাঁড়িয়ে অর্জুন সিংয়ের বড় ঘোষণা

সারা রাজ্য যখন ধনদেবী লক্ষ্মীপুজোর আরাধনায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে উৎসবের নতুন মেজাজ। লক্ষ্মীপুজোর শুভ দিনেই প্রথা মেনে সম্পন্ন হলো নৈহাটির বিখ্যাত ‘বড়মা’র কাঠামো পুজো। আর সেই আবেগঘন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি স্পষ্ট জানান, বড়মার মন্দিরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে আর কোনো ‘ভিআইপি কালচার’ বা বিশেষ সুবিধা বহাল রাখা হবে না।
রবিবার সকালে বড়মার কাঠামো পুজো উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ ভক্তদের ভিড় জমেছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথা অনুযায়ী এদিন থেকেই শুরু হলো বিশালাকার প্রতিমা তৈরির কাজ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং এবং ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি তাপস ঘোষসহ মন্দির কমিটির সদস্যরা।
“মায়ের দরবারে সবাই সমান”
বিগত বছরগুলিতে বড়মার পুজোর সময় ‘ভিআইপি কালচার’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও সাধারণ পুজোপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এদিন অর্জুন সিং সাধারণ মানুষের সারিতে দাঁড়িয়ে বাঁশ দিয়ে ঘেরা মা কালীর কাঠামোর আরতি দর্শন করেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, “বড়মার মন্দিরে এবার কোনো ভিআইপি কালচার থাকবে না। সাধারণ মানুষের মতোই সবাই সমানভাবে পুজো দেওয়ার সুযোগ পাবেন। মায়ের কাছে কেউ আলাদা বা ভিআইপি হতে পারে না। আগের আমল বা সরকার কী করে গেছে, তা নিয়ে আমরা ভাবতে চাই না। সাধারণ মানুষের সঙ্গেই আমরা পুজো দর্শন করেছি।”
কড়া নিরাপত্তা ও ৯ কোটি টাকার সৌন্দর্য্যায়ন
চোরবাগানের সাম্প্রতিক ঘটনার পর নৈহাটির বড়মার পুজোকে ঘিরে বাড়তি ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন থেকেই সতর্ক। প্রতি বছরের মতো এবারও লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির রূপরেখা খতিয়ে দেখতে মন্দির সংলগ্ন এলাকা ও অরবিন্দ রোড সংলগ্ন গঙ্গার ঘাট পরিদর্শন করেন পরিবহণমন্ত্রী। বড়মার মূর্তি বিশালাকার হওয়ায় বিসর্জনের সময় গঙ্গার ঘাটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী জানান, বড়মার মন্দির ও পুজোকে ঘিরে আজ দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তাই ভক্তদের সুরক্ষা ও সুবিধার্থে অরবিন্দ রোডের গঙ্গার ঘাটটি সুসজ্জিত ও আধুনিক করে তুলতে ইতিমধ্যেই ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
আগামী ৮ নভেম্বর কালীপুজো। তবে লক্ষ্মীপুজোর দিন থেকেই বড়মার কাঠামো পুজো ও ভিআইপি প্রথা বাতিলের আশ্বাসে নতুন করে সাজো সাজো রব নৈহাটিতে।