রামের নামে কোটি কোটি টাকার নয়ছয়? অযোধ্যার বিতর্কিত তহবিল নিয়ে মোদী-শাহদের সরাসরি অভিশাপ খাড়্গের!

অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ ও তহবিল সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে সরাসরি ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে স্মরণ করে বিজেপিকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। রবিবার বিহারের পাটনায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাড়্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ভগবান রাম স্বয়ং ‘চোখ মেলে দেখবেন’ এবং তাঁর পবিত্র নাম ভাঙিয়ে যারা দেশে সম্পদ ও টাকা লুটপাট চালিয়েছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেবেন।

পাটনার সভা থেকে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ‘শুদ্ধীকরণ’ (Purification) কাণ্ড নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান কংগ্রেস সভাপতি। তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানীতে তাঁর সভার পর যেভাবে মঞ্চ ও মাঠ ধৌত করে ‘শুদ্ধীকরণ’ করা হয়েছিল, সেই ঘটনায় বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত তো দূরের কথা, উল্টে হলদওয়ানী সফরের সময় কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেই পুলিশি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। এই রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও অপমানের পিছনে যারা জড়িত, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন খাড়্গে।

‘শুদ্ধীকরণ’ ও আরএসএস-কে চরম নিশানা: সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাড়্গে স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দেশে যতদিন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস (RSS)-এর উগ্র ভাবধারা থাকবে, ততদিন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হওয়া অসম্ভব। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে নিশানা করে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “নীতীশ কুমারের মতো তথাকথিত সমাজবাদী নেতারা আজ এমন কিছু মানুষের হাত ধরেছেন, যারা আরএসএস-এর বিভাজক রাজনীতিতে বিশ্বাসী— যা আমাকে সত্যিই গভীরভাবে ব্যথিত করে।”

উল্লেখ্য, গত ৮ অগস্ট উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানীর রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের একটি বিশাল জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন খাড়্গে। এর পরেই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সংগঠনের কর্মীরা মাঠটিতে গঙ্গার জল ছিটিয়ে ও মন্ত্রোচ্চারণ করে তথাকথিত ‘শুদ্ধীকরণ’ চালায়, যা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের ঝড় তোলে। এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাহুল গান্ধী রামলীলা ময়দানের এই জাতপাতভিত্তিক ‘শুদ্ধীকরণ’-এর সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন।

‘ভোট চুরি’ ও ব্যালট পেপারে ভোটের দাবি: শুধু মন্দির তহবিল বা শুদ্ধীকরণ বিতর্কই নয়, পাটনার জনসভা থেকে দেশের বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়েও কেন্দ্রকে একহাত নেন কংগ্রেস সভাপতি। পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি ‘ভোট চুরি’ করে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে বলে মারাত্মক অভিযোগ তোলেন তিনি। হুশিয়ারি দিয়ে খাড়্গে বলেন, “এই ভোট চোরদের একদিন না একদিন আইনের খাঁচায় বন্দি হয়ে গরাদের পিছনে যেতেই হবে।” দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ফেরাতে ইভিএম বাদ দিয়ে ফের ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবিও তোলেন কংগ্রেসের শীর্ষ এই নেতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *