“টাকা না দিলে নাম উঠবে না!” বন্যায় ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি চক্রের ফাঁদে অসহায় মানুষ

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত এখনও টাটকা। তার মধ্যেই ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের জন্য সরকারের তরফে বরাদ্দ করা ক্ষতিপূরণের টাকা পেতেও কাটমানি দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠল। মালদার মানিকচক ব্লকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। যদিও ভয়ে সাধারণ ক্ষতিগ্রস্তরা ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে নারাজ, তবে এই দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির থেকে শুরু খোদ পদ্ম শিবিরের জেলা নেতৃত্বও।

বন্যায় ক্ষতিপূরণ ও কাটমানির অভিযোগ

পুজোর মুখে গঙ্গার জলে বানভাসি হয়েছিল মানিকচকের ভূতনি চরের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সহ রতুয়া ১ নম্বর এবং ইংরেজবাজার ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ। জল নেমে যাওয়ার পর মানিকচকে সভা করে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় নাম তোলার জন্যই এখন একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি মোটা অঙ্কের কাটমানি দাবি করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা তথা সিপিআই(এম) নেতা দেবজ্যোতি সিনহা অভিযোগ করে জানান, আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতেই নাকি ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার টাকা কাটমানি চাওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে নাম কেটে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে আগামী ২৮ অক্টোবর দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত ঘেরাও আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বামেরা।

এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্গত ব্যক্তি জানান, প্রথম তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও পরে সেই তালিকা বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় তালিকায় নাম তুলতে গেলে এলাকার এক পঞ্চায়েত সদস্য তাঁর কাছে ৫৫ হাজার টাকা দাবি করেন এবং মুখ বন্ধ রাখার হুমকি দেন। ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওই পরিবার।

কী বলছে রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসন?

এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, প্রথম তালিকার কিছু বিভ্রান্তি দূর করতেই নতুন তালিকা তৈরি হচ্ছে। তবে কেউ কাটমানি চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে দলও। বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন যে, এই ধরনের কিছু অভিযোগ তাঁদের কাছেও এসেছে এবং ইতিমধ্যেই দলের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। দুর্গত মানুষের ত্রাণের টাকাতেও এই ধরনের সিন্ডিকেট বা কাটমানি সংস্কৃতির অভিযোগ সামনে আসায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *