“সন্ত্রাসবাদ বরদাস্ত নয়, বদলাতেই হবে রাষ্ট্রপুঞ্জকে!” চিন্ময় মহোৎসবে এস জয়শঙ্করের কড়া বার্তা বিশ্বনেতাদের

ইউক্রেন থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য—বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই সংঘাতের আগুন জ্বলুক না কেন, তার আঁচ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। যুদ্ধের সরাসরি অংশ না হয়েও চড়া জ্বালানির দাম, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে বিশ্বের দূর-দূরান্তের অসংখ্য দেশকে। এই আন্তর্জাতিক সংকটের মুখোমুখি হয়ে অবিলম্বে যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার কড়া বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাষ্ট্রপুঞ্জ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘চিন্ময় অমৃত মহোৎসবে’র আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান সেনার ব্যারাকে বা লড়াইয়ের ময়দানে হতে পারে না; একমাত্র কূটনৈতিক আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তি ফেরানো সম্ভব।
সংঘাতের মাশুল গুনছে নির্দোষ দেশগুলি
ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, “এই দুই অঞ্চলের যুদ্ধের প্রভাব বহুদূর ছড়িয়ে পড়েছে। যেসব সমাজ বা অর্থনীতি এই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে দূর-দূরান্তেও যুক্ত নয়, আজ তাঁদিগকেও এর অর্থনৈতিক মাশুল গুনতে হচ্ছে।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির এমন সংকটকালে ভারত কখনো নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকতে পারে না। বিশ্বজুড়ে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারত নিজস্ব কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতে সম্পূর্ণ তৈরি।
রাষ্ট্রপুঞ্জে সংস্কার ও গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্বের দাবি
আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের আমূল সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর মতে, বৈশ্বিক পরিচালনার ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশসমূহ এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলিকে বাইরে রেখে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত নয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্তমান সীমাবদ্ধতা দূর করে এর কার্যকারিতা বাড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ারি
আন্তর্জাতিক শান্তির পথে সন্ত্রাসবাদকে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে জয়শঙ্কর বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে কোনো রাষ্ট্রীয় কৌশলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না।” যেসব দেশ এখনও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেয়নি, তাদের কড়া সমালোচনা করে তিনি রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।