সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরাট মামলা! প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি!

ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর সম্পূর্ণ কার্যপদ্ধতি, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM)-এর কার্যকারিতা এবং দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী বিশাল তিওয়ারি এই নতুন রিট পিটিশনটি দাখিল করেছেন। আবেদনে জোরালো দাবি তোলা হয়েছে যে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের সামগ্রিক कामकाज এবং নির্বাচন পরিচালনার নিয়মনীতি খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির (CJI) নেতৃত্বে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায় বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হোক। এই মামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নির্বাচনী ব্যবস্থার অন্তর্বর্তী ত্রুটিগুলি দূর করে ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিত করা।
দাখিল করা এই জনস্বার্থ মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নির্বাচনী প্রচারে ধর্মের অবাধ ব্যবহার বন্ধ করা। আবেদনে স্পষ্ট ভাষায় অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের সময় কোনো অবস্থাতেই যেন ধর্মীয় পরিচয়, ধর্মীয় প্রতীক, সাম্প্রদায়িক আবেদন, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়-ভিত্তিক পরিচিতি বা প্ররোচনামূলক ও উসকানিমূলক ভাষণের ব্যবহার করা না হয়। সেই মর্মে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ও বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। याचिकाকারীর স্পষ্ট বক্তব্য, নির্বাচন প্রক্রিয়ার পবিত্রতা রক্ষা করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই পিটিশনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। আবেদনকারী সাফ জানিয়েছেন যে, এই মামলার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা পদে আসীন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক রায় চাওয়া নয় এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনের ফলাফলকেও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করায় না। তবে মহারাষ্ট্রের সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকার খসড়ার একটি গুরুতর ত্রুটির কথা মামলায় জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে একটি সফটওয়্যার বা প্রযুক্তিগত গোলযোগের কারণে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার ৩১৩ জন ভোটারের বয়স ভুলবশত ১০১ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যে দেখানো হয়েছিল, যা নির্বাচনী তালিকার অখণ্ডতা ও প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
পাশাপাশি, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মেরুদণ্ড অর্থাৎ ইভিএম (EVM)-এর প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ও মান নিয়ে কঠোর পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এই আবেদনে বলা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের ইভিএম প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং বিশ্বমানের কঠোর সুরক্ষা নির্দেশিকাগুলিকে পুরোপুরি মেনে চলে কি না, তা স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখা হোক। বর্তমান এই সময়ে যখন খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং অপর দুই কমিশনারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত ও মতপার্থক্য নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই মামলাটি নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যথাযথ নিয়মের অভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় হাজার হাজার বৈধ ও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।