‘রাজনীতিকে ঘৃণা করি, আমি খুব ক্লান্ত!’ ছাব্বিশের ভোটের পরেই সন্ন্যাস নেওয়ার ঘোষণা মদন মিত্রের?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের মন্তব্যে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তাঁর অবস্থান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। এর মধ্যেই তিনি দিদির শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন। আর এবার রাজনীতি থেকেই পাকাপাকিভাবে সন্ন্যাস নেওয়ার জোরালো ইঙ্গিত দিলেন রাজনীতির এই ‘কালারফুল’ ব্যক্তিত্ব। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে তিনি চরম ক্লান্ত।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মমতার একদা এই বিশ্বস্ত সৈনিক বর্তমান রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ উগরে দেন। মদন মিত্র বলেন, ‘মানুষ আজ ভয় ও দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ বছরের দুর্গাপুজো বিগত বছরগুলির তুলনায় অনেকটাই আলাদা।’ পুজোর দিনগুলোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে তিনি আরও যোগ করেন, আগের মতো আর উৎসবের আনন্দ নেই, বরং চারপাশে এক ধরনের বিষণ্ণতা ও বেদনার অনুভূতি তাঁকে গ্রাস করেছে।
নিজের বিধানসভা এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মদন মিত্র জানান, উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটিতে তিনি আর আগের মতো অবাধে ঘোরাফেরা করতে পারছেন না। ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে না পারায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে তিনি গভীর ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, আজ তাঁরাও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে তিনি চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন এবং এমন কিছু করতে চান না যা সাধারণ মানুষের জন্য আরও সমস্যার সৃষ্টি করে।
রাজনীতি ছাড়ার জল্পনা উসকে দিয়ে মদন মিত্র দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চারপাশের কষ্ট তাঁকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, ‘একটা উপায় হল রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া। আমি খুব ক্লান্ত। রাজনীতিতে এত ঘৃণা। আমি রাজনীতিকে ঘৃণা করি।’
এদিকে, এই সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে মদনের মুখে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে তিনি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেছেন। শুভেন্দুর ব্যস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। পাশাপাশি, বিজয়ার প্রাক্কালে বর্তমান ও প্রাক্তন উভয় মুখ্যমন্ত্রীকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।
মদন মিত্রের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার!