“প্রেমিকা থাকা অন্যায় নয়, তবে…” ১৩-১৪ বছরে গর্ভবতী করে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যপালের!

কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন মানেই তো চিরাচরিত ডিগ্রি বিতরণ আর ভবিষ্যতের কেরিয়ার গড়ার মন্ত্র। কিন্তু লখনউয়ের একটি সমাবর্তন মঞ্চ থেকে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল এমন কিছু মন্তব্য করলেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গেছে। প্রেমের সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ থেকে শুরু করে কম বয়সে মা হওয়ার প্রবণতা—তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে এক্কেবারে খোলাখুলি কথা বললেন তিনি।

কী বলেছেন আনন্দীবেন প্যাটেল?
বৃহস্পতিবার লখনউয়ের মহর্ষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “জীবনে প্রেমিকা থাকা বা সম্পর্কে জড়ানোর মধ্যে কোনও অন্যায় নেই। কিন্তু সম্পর্কে জড়ালে তার প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে তা অবশ্যই পালন করতে হবে। প্রেমিকাকে অন্তঃসত্ত্বা করে বা গর্ভবতী করে মাঝপথে একা ফেলে চলে যাওয়া অত্যন্ত অন্যায়।”

বিশেষ করে ১৩-১৪ বছর বয়সি নাবালিকা মেয়েদের গর্ভবতী হয়ে পড়ার পর তাঁদের একা ফেলে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। রাজ্যপালের স্পষ্ট কথা, প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর আগে তরুণ-তরুণীদের অবশ্যই নিজের পায়ে দাঁড়ানো বা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া জরুরি। নিজের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি সম্পর্কের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জন করাই আসল পরিপক্বতা।

AI-এর যুগে সৃজনশীলতার পাঠ ও অতীতেও বিতর্কের প্রসঙ্গ
এদিনের সমাবর্তন মঞ্চ থেকে শুধু সম্পর্কের বার্তা দিই ক্ষান্ত থাকেননি আনন্দীবেন। বর্তমান জমানার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর অন্ধ অনুকরণ নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে সতর্ক করেছেন তিনি। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, শুধুমাত্র প্রযুক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে নিজেদের মৌলিক বুদ্ধি, বিবেচনা এবং সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সেই অর্জিত জ্ঞান ও শিক্ষাকে দেশের ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগেও লিভ-ইন সম্পর্ক, বিয়ে ও সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে একাধিক মন্তব্য করে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিলেন আনন্দীবেন প্যাটেল। গত বছর অক্টোবর মাসেও তরুণীদের লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন তিনি। সমাবর্তন মঞ্চে তাঁর এই সাম্প্রতিক ও খোলামেলা মন্তব্য বর্তমানে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *